বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের মোবাইল নম্বর হ্যাক হওয়া নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে একটি সতর্কবার্তা পোস্ট করে এই ঘটনার সত্যতা প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন যে তার ফোনে অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রবেশ করা হয়েছে এবং তিনি কোনো আর্থিক সহায়তা চাচ্ছেন না।
ফেসবুকের পোস্টে উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে হ্যাক করা নম্বরের মাধ্যমে যে কোনো ধরনের অর্থের অনুরোধ উপেক্ষা করা উচিত। তিনি ব্যবহারকারীদের অনুরোধ করেন যে এই ধরনের বার্তা পাওয়া গেলে তা উপেক্ষা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে। পোস্টে তিনি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ না করে সাধারণভাবে সতর্কতা প্রকাশ করেন।
উল্লেখযোগ্য যে, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ১৬ আগস্ট ২০২৪ তারিখে বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত হন। তার দায়িত্বের মধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কাজও অন্তর্ভুক্ত। এই বহুমুখী দায়িত্ব তাকে দেশের অবকাঠামো ও জ্বালানি নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রদান করে।
উপদেষ্টার বর্তমান দায়িত্বের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের নিরাপত্তা, জ্বালানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং খনিজ সম্পদের উত্তোলন ও রপ্তানি নীতি নির্ধারণ অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি সড়ক ও সেতু প্রকল্পের ত্বরান্বিত বাস্তবায়ন, রেলপথের আধুনিকায়ন এবং পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন তার তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এই সব ক্ষেত্রের সমন্বিত কাজের ফলে তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছেন।
ফোন নম্বর হ্যাক হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেয়। নিরাপত্তা সংস্থা ও সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে ঘটনাটি বিশ্লেষণ করে দায়ী ব্যক্তির সন্ধান ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। এছাড়া, সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা বাড়াতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রোটোকল প্রয়োগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার ফলে সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষত উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য হ্যাক হওয়া সাইবার আক্রমণের একটি নতুন ধরণ নির্দেশ করতে পারে, যা ভবিষ্যতে আরও কঠোর নিরাপত্তা নীতি প্রয়োজনীয় করে তুলবে।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, এই ধরনের সাইবার হুমকি সরকারী স্বচ্ছতা ও জনসাধারণের আস্থা বজায় রাখতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনকে বাধ্য করে। উপদেষ্টার দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং জনসাধারণকে সরাসরি জানানো একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের ফোন নম্বর হ্যাক হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সাইবার নিরাপত্তা ঘটনা, যা সরকারকে তথ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে পুনর্বিবেচনা করতে উদ্বুদ্ধ করবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ এবং জনসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধি এই ধরনের হুমকি মোকাবেলায় মূল চাবিকাঠি হবে।



