ঢাকার একটি গবেষণা প্রতিবেদন অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর অনীহা ও আমলাতন্ত্রের চাপের ফলে সরকার জুলাই সনদের মূল লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। অনুষ্ঠানটি সোমবার অনুষ্ঠিত হয় এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থার প্রত্যাশা-প্রাপ্তি বিশ্লেষণকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয়।
ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, একদলীয় প্রভাবের পরিবর্তে প্রশাসনে ত্রিমুখী প্রভাবের মাত্রা তিনগুণ বেড়েছে। এই পরিবর্তনটি সরকারকে একক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে বহু দলীয় স্বার্থের টানাপোড়েনে ফেলেছে, যা নীতির ধারাবাহিকতা ও কার্যকারিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনে আগামী নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একাধিক রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অনীহা এবং প্রশাসনিক জটিলতা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি আওয়ামী সরকারের পতন, পরবর্তী বিচার, সংস্কার ও নির্বাচনের প্রত্যাশা-প্রাপ্তি বিশ্লেষণ করে। interim সরকারকে লক্ষ্য করে বলা হয়েছে, যদিও সংস্কারে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বহু ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মুখস্থ পদক্ষেপই দেখা গেছে, যা বাস্তব পরিবর্তনে অপর্যাপ্ত।
অধিকন্তু, প্রশাসনে এক দলের প্রভাব হ্রাস পেয়ে অন্য দলগুলোর দখল বাড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এই পরিবর্তনটি শাসন কাঠামোর ভারসাম্যকে নষ্ট করে, ফলে নীতি নির্ধারণে একাধিক স্বার্থের টানাপোড়েনা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিচার ব্যবস্থার স্বতন্ত্রতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে; বর্তমান পরিস্থিতিতে বিচার কি প্রতিশোধের হাতিয়ার নাকি ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্যে কাজ করছে, তা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিচ্ছে।
গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে দেশে ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতা এবং ১৫৮টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এই সংখ্যা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মাত্রা নির্দেশ করে, যা নির্বাচনের পূর্বে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।
ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রভাবের ফলে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও নারীর অংশগ্রহণের ওপর হুমকি সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ধর্মীয় গোষ্ঠীর অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ সামাজিক সমতা ও লিঙ্গ সমতার অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
টিআইবি এছাড়াও আগামী নির্বাচনে মব সংস্কৃতির সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছে। জনমত গঠন ও ভোটার আচরণে হিংসাত্মক প্রবণতা বৃদ্ধি পেলে নির্বাচনের ফলাফল ন্যায়সঙ্গত হতে পারে না, এ বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তত ১৮৯জন সাংবাদিককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে টিআইবি দাবি করে। এই সংখ্যা মিডিয়া স্বাধীনতার অবনতি ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকির সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মিডিয়া নিরাপত্তা এখন আরও ঝুঁকির মুখে রয়েছে; সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ ও হুমকি বাড়ার ফলে স্বাধীন প্রতিবেদনের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। টিআইবি উল্লেখ করেছে, নিরাপদ সংবাদ পরিবেশ গড়ে তোলা না হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা হ্রাস পাবে।
সারসংক্ষেপে, টিআইবির গবেষণা বর্তমান সরকারের জুলাই সনদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতা, প্রশাসনিক ও বিচারিক কাঠামোর সমস্যাবলি, রাজনৈতিক সহিংসতা ও মিডিয়া নিরাপত্তার অবনতি ইত্যাদি বিষয়গুলোকে একত্রে তুলে ধরেছে। এই বিশ্লেষণ ভবিষ্যৎ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও শাসন সংস্কারের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে।



