অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ ২ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় জানিয়েছেন, জুলাই সনদ তৈরির মূল উদ্দেশ্য হল রাষ্ট্রের সম্পদ ও ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করা। তিনি উল্লেখ করেন, এই সনদে নির্ধারিত পরিবর্তনগুলোকে দেশের প্রতিটি কোণে পৌঁছে দিতে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
সভাটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সমন্বয়ে গৃহীত হয়, যেখানে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়। রীয়াজের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোকে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে পুনর্গঠন করা, যাতে একক ব্যক্তির ইচ্ছা দিয়ে দেশের দিকনির্দেশনা নির্ধারিত না হয়।
আলী রীয়াজ রাষ্ট্রপতির নিয়োগ ও দায়িত্ব নিয়ে বিশদভাবে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি কেবল প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের অধিকার রাখেন, অন্য কোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে গ্রহণ করতে পারেন না। তবে বাস্তবে, অতীতের বেশিরভাগ উচ্চপদস্থ নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্মকমিশন এবং উচ্চ আদালতের বিচারপতি নিয়োগ অন্তর্ভুক্ত। এই প্রথা সংবিধানিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, এটাই রীয়াজের প্রধান উদ্বেগ।
রীয়াজ জোর দিয়ে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা জনগণের হাতে, তবে দীর্ঘদিন ধরে এই অধিকার থেকে জনগণকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তিনি গণভোটে অংশগ্রহণের জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ এক ব্যক্তির ইচ্ছার অধীনে সীমাবদ্ধ না হয়ে, সমগ্র জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী পরিচালিত হওয়া উচিত।
সভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সালেহ হাসান নকীবের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. খাদেমুল ইসলাম মোল্যা এবং নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. ছায়েদুর রহমানসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সকল অংশগ্রহণকারী একমত যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে।
আলোচনার সময় রীয়াজের উল্লেখিত জুলাই সনদটি, অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বারা প্রণীত, জনমালিকানার নীতি ও সরাসরি গণভোটের মাধ্যমে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে তৈরি। তিনি উল্লেখ করেন, এই সনদে নির্ধারিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের ক্ষমতার কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তন আসবে এবং জনগণের অংশগ্রহণ বাড়বে।
অন্তে, রীয়াজ সকলকে আহ্বান জানান, জুলাই সনদের মূল বার্তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে এবং আসন্ন গণভোটে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রক্রিয়া বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গঠনে এক নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করবে এবং একক শাসনের ঝুঁকি দূর করবে।



