২ ফেব্রুয়ারি সোমবার, বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা মিটিং শেষের পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী উপস্থিত সকলকে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্নের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট প্রত্যেককে তার নির্ধারিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে; অনিয়মে কেউ সফল হতে পারবে না।
উপদেষ্টা নির্বাচনকালীন প্রশাসনিক একপাক্ষিকতার অভিযোগকে প্রার্থীদের রাজনৈতিক মন্তব্য হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ভোটার টানতে প্রতিটি প্রার্থী নিজস্ব রকমের বক্তব্য দিচ্ছেন, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখবে। এই নীতির ভিত্তিতে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো পক্ষপাতিত্ব না করা হবে।
নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য উপকূলীয় এলাকায় কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর কর্মীসংখ্যা পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি করা হয়েছে। তদুপরি, মাঠ পর্যায়ের নজরদারি বাড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জন্য বডি ক্যামেরা, সিসি ক্যামেরা এবং ড্রোনের ব্যবহার অনুমোদন করা হয়েছে। এসব প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময় সারা দেশে প্রায় এক লাখ সেনাবাহিনী, দেড় লাখ পুলিশ, পাঁচ হাজার নৌবাহিনী, ৩৭ হাজার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, দশ হাজার র্যাব, প্রায় পাঁচ হাজার কোস্ট গার্ড এবং ছয় লাখের কাছাকাছি আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। এই বিশাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভোটারদের নিরাপদে ভোটদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো অশান্তি বা হিংসাত্মক ঘটনার সম্ভাবনা হ্রাস করবে।
মিটিংয়ে স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সকল অংশগ্রহণকারী নিরাপত্তা পরিকল্পনা, কর্মী মোতায়েনের বিশদ এবং নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।
উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা বজায় রাখা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে একে অপরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বজায় রাখতে আহ্বান জানান।
এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং দায়িত্ববোধের ওপর জোর দেওয়া নির্বাচনের পরবর্তী ধাপের জন্য ভিত্তি স্থাপন করবে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি নির্বাচনের শেষ দিন পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবে। শেষ পর্যন্ত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সকল পক্ষের সহযোগিতা অপরিহার্য বলে উপদেষ্টা পুনরায় উল্লেখ করেন।



