জামায়াত-এ-ইসলামির আমির শফিকুর রহমান চট্টগ্রামে নির্বাচনী সফর শুরু করেন, যেখানে তিনি পাঁচটি জনসভার প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। সফরটি কক্সবাজার থেকে শুরু হয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন মোড়ে অনুষ্ঠিত হবে, এবং এটি পার্টির নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে পরিকল্পিত। পোস্টারগুলোতে গেম অব থ্রোনস সিরিজের ভিজ্যুয়াল স্টাইল ব্যবহার করা হয়েছে, যা স্থানীয় মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
শফিকুর রহমানের সফরসূচিতে কক্সবাজারের মহেশখালী, কক্সবাজার সদর, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া পদুয়া, সীতাকুণ্ড এবং চট্টগ্রাম নগরের বন্দর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জনসভার আয়োজন অন্তর্ভুক্ত। প্রতিটি স্থানে তিনি পার্টির মূল নীতি ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তুলে ধরবেন, এবং উপস্থিত ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাবেন।
প্রচারমূলক পোস্টারগুলোতে শীতের থিম, হোয়াইট ওয়াকারসের চিত্র এবং ‘উইন্টার ইজ কামিং’ স্লোগান দেখা যায়, যা গেম অব থ্রোনসের পরিচিত উপাদান থেকে অনুপ্রাণিত। এই ভিজ্যুয়াল উপাদানগুলোকে রাজনৈতিক প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত করা প্রথমবারের মতো দেখা যায়, ফলে সামাজিক মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
পোস্টারগুলোকে নিয়ে জামায়াত-এ-ইসলামি ও তার ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কিছু নেতা-কর্মী অস্বস্তি প্রকাশ করেন। তারা উল্লেখ করেন যে, এমন ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা পার্টির প্রচারাভিযানে ব্যবহার করা হয়নি এবং পোস্টারগুলোর নকশা সম্পর্কে তারা অবগত ছিলেন না।
প্রতিবাদী মন্তব্যের পরেও, জামায়াত-এ-ইসলামি পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা সংশোধনী প্রকাশ করা হয়নি। তবে পার্টির স্থানীয় সংগঠকরা পোস্টারগুলোকে ‘সৃজনশীল প্রচার’ হিসেবে তুলে ধরতে চেষ্টা করছেন, এবং ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য আধুনিক মিডিয়া ব্যবহারকে সমর্থন করছেন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, গেম অব থ্রোনসের মতো আন্তর্জাতিক পপ সংস্কৃতির উপাদানকে রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যবহার করা ভোটারদের বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে পার্টির চিত্রকে আধুনিক করে তুলতে পারে। তবে একই সঙ্গে, ঐতিহ্যবাহী ভোটার গোষ্ঠীর মধ্যে এই ধরনের প্রচারকে অপ্রচলিত বা অপ্রাসঙ্গিক বলে বিবেচনা করা হতে পারে।
সফরের সময় শফিকুর রহমানের বক্তৃতা মূলত পার্টির নীতি, সামাজিক উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধানের ওপর কেন্দ্রীভূত হবে বলে জানা যায়। তিনি বিশেষ করে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে পার্টির অগ্রাধিকার তুলে ধরতে ইচ্ছুক।
প্রতিপক্ষের কিছু বিশ্লেষক পোস্টারগুলোকে ‘রাজনৈতিক ব্র্যান্ডিং’ হিসেবে মূল্যায়ন করে, এবং প্রশ্ন তোলেন যে, এই ধরনের ভিজ্যুয়াল কৌশল ভোটারদের প্রকৃত সমস্যার থেকে দৃষ্টিভঙ্গি সরিয়ে নেবে কিনা। তারা আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এমন চিত্র ব্যবহার করা ভোটারদের তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে।
শফিকুর রহমানের চট্টগ্রাম সফর শেষ হওয়ার পর পরবর্তী জনসভাগুলো কক্সবাজারের অন্যান্য এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে একই ধরণের প্রচারমূলক সামগ্রী ব্যবহার করা হতে পারে। পার্টি নেতৃত্বের মতে, এই প্রচারাভিযান ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং পার্টির নীতি প্রচারে সহায়ক হবে।
সামগ্রিকভাবে, জামায়াত-এ-ইসলামির এই প্রচারাভিযান গেম অব থ্রোনসের থিমকে রাজনৈতিক পোস্টারে ব্যবহার করে নতুন দৃষ্টিকোণ নিয়ে এসেছে। যদিও কিছু নেতার অস্বস্তি প্রকাশ পেয়েছে, তবে পার্টি এই কৌশলকে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণের উপায় হিসেবে চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের পপ সংস্কৃতি-ভিত্তিক প্রচারাভিযান কতটা কার্যকর হবে তা নির্বাচনের ফলাফলে স্পষ্ট হবে।



