বাংলাদেশের শীর্ষ রাইফেল শুটার রোবিয়ুল ইসলাম ও তার কোচ শারমিন আক্তার সোমবার বিকেলে ঢাকা থেকে নিউ দিল্লি রওনা হয়েছেন। তারা এশীয় শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণের জন্য গন্তব্যস্থলে পৌঁছাবেন, যা ২ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এই ভ্রমণটি দীর্ঘ সময়ের অনিশ্চয়তার পর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং শুটারদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরে আসার সুযোগ দিচ্ছে।
প্রথমে রোবিয়ুলের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, কারণ সরকার নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারতীয় আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপের জন্য ক্রিকেট দল প্রত্যাহার করেছিল। তবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় হোস্ট দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যার মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের গার্ড ও পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা অন্তর্ভুক্ত, যাচাই করার পর শুটার ও কোচকে ভ্রমণ অনুমোদন দেয়। নিরাপত্তা শর্ত পূরণ হওয়ায় দলটি নির্ধারিত সময়ে রওনা হতে পারছে।
এশীয় শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপ রোবিয়ুলের জন্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরে আসার প্রথম সুযোগ, যেহেতু তিনি ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকের পর আর কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেননি। ২৭ বছর বয়সী রোবিয়ুল শুধুমাত্র ১০ মিটার এয়ার রাইফেল শৃঙ্খলে ৬ ফেব্রুয়ারি প্রতিযোগিতা করবেন। তিনি অলিম্পিকে একই ইভেন্টে অংশগ্রহণ করলেও ফাইনালে পৌঁছাতে পারেননি, তাই 이번 대회에서의 성과가 더욱 기대된다.
প্রাথমিকভাবে তিনি মিক্সড রাইফেল ইভেন্টেও অংশ নিতে যাচ্ছিলেন, যেখানে শায়রা আরেফিনের সঙ্গে দল গঠন করা হতো। তবে জানুয়ারি শুরুর দিকে শুরু হওয়া জাতীয় প্রশিক্ষণ শিবিরে শায়রা অংশগ্রহণ না করার ফলে মিক্সড ইভেন্ট থেকে রোবিয়ুল বাদ পড়ে। মিশ্র রাইফেল ইভেন্টে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা বাতিল হওয়ায় রোবিয়ুলের মনোযোগ একক শুটিংয়ে কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
প্রায় তিন সপ্তাহের তীব্র প্রস্তুতির পর রোবিয়ুলের লক্ষ্য আটজন শুটার নিয়ে গঠিত ফাইনালে স্থান অর্জন করা। প্রশিক্ষণ শিবিরটি ঢাকা রাইফেল ক্লাবে জানুয়ারি প্রথম সপ্তাহে শুরু হয় এবং শুটারদের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি তীব্রভাবে বাড়ানো হয়। প্রশিক্ষণ সেশনে তিনি ধারাবাহিকভাবে ৬২৮ থেকে ৬৩১ পয়েন্টের স্কোর রেকর্ড করেছেন, যা কোচ শারমিনের মতে প্রতিযোগিতায় ভালো ফলাফলের ইঙ্গিত দেয়।
রোবিয়ুলের পূর্বের সাফল্য ২০১৯ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত ১৩তম দক্ষিণ এশীয় গেমসে ১০ মিটার এয়ার রাইফেল শৃঙ্খলে ব্রোঞ্জ পদক জয় করা। এই অর্জন তাকে দেশের শীর্ষ রাইফেল শুটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছে। তার প্রশিক্ষণ স্কোরের ধারাবাহিকতা এবং অভিজ্ঞতা ফাইনালে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
কোচ শারমিন আক্তার, যিনি নিজেও দক্ষিণ এশীয় গেমসে স্বর্ণপদক জিতেছেন, রোবিয়ুলের প্রশিক্ষণ স্কোরকে ৬২৮-৬৩১ পয়েন্টের মধ্যে স্থিতিশীল রাখলে এবং দিল্লিতে সামান্য উন্নতি করলে ফাইনালে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বেশি হবে বলে মন্তব্য করেছেন। শারমিনের স্বর্ণপদক ২০১৭ সালে দক্ষিণ এশীয় গেমসে অর্জিত, যা তার কোচিং ক্যারিয়ারকে শক্তিশালী ভিত্তি দিয়েছে।
শারমিন সম্প্রতি আন্তর্জাতিক শুটিং ফেডারেশনের ডি লাইসেন্স সম্পন্ন করেছেন এবং শারীরিক শিক্ষায় মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন, যা তার কোচিং পদ্ধতিতে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করেছে। তার অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ পদ্ধতি রোবিয়ুলের পারফরম্যান্সকে সমর্থন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দিল্লিতে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নশিপের সময়সূচি অনুযায়ী রোবিয়ুলের একক শুটিং প্রতিযোগিতা ৬ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত, এবং ফাইনাল পর্যন্ত অগ্রসর হলে তিনি দেশের গর্ব বাড়াতে সক্ষম হবেন। চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল আটজন শুটার নিয়ে গঠিত, যেখানে প্রতিটি শুটার সর্বোচ্চ ৬৩২ পয়েন্ট অর্জন করতে পারে। তার পারফরম্যান্সের ফলাফল দেশের শুটিং ক্রীড়া সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করবে।



