23 C
Dhaka
Thursday, May 7, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষারাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণভোটবিষয়ক সভায় রাকসু জিএসের শিক্ষক নাম ঘোষণা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণভোটবিষয়ক সভায় রাকসু জিএসের শিক্ষক নাম ঘোষণা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে অনুষ্ঠিত গণভোটবিষয়ক মতবিনিময় সভায় রাকসু ছাত্রসংঘের সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার কয়েকজন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করে বিতর্ক সৃষ্টি করেন। অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়।

সভা মূলত সরাসরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়। এতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট তেরটি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রিয়াজ উপস্থিত ছিলেন।

সালাহউদ্দিন আম্মার, যিনি রাকসু ছাত্রসংঘের জিএস পদে আছেন, সভার মাঝামাঝি সময়ে মঞ্চে উঠে কিছু কাগজ হাতে নিয়ে কথা বলার অনুরোধ করেন। তিনি রেজিস্ট্রার ইফতিখারুল আলমের কাছে এক মিনিটের জন্য সময় চেয়ে আবেদন করেন, তবে প্রথমে সঞ্চালক তার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন।

এরপর আম্মার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সালেহ হাসান নকীবের কাছে সরাসরি অনুমতি চেয়ে শেষ পর্যন্ত মঞ্চে কথা বলার সুযোগ পান। উপাচার্য তার অনুরোধ মঞ্জুর করে এবং আম্মারকে মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখার অনুমতি দেন।

বক্তব্যের শুরুতে আম্মার উল্লেখ করেন যে, সভার অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি আছেন যারা জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানকালে নীরব ছিলেন। তিনি বলেন, কিছু শিক্ষক ও প্রশাসক সেই সময়ে নীরবতা বজায় রেখেছেন এবং এখন তারা বিভিন্ন বর্ণনা তৈরি করে চলেছেন।

এরপর তিনি হাতে থাকা নথি থেকে কয়েকজন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, যাদের তিনি ‘ফ্যাসিস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বিশেষ করে পুন্ড্র ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি-দের নাম উল্লেখ করতে চান বলে জানিয়ে দেন।

কথা বলার সময় সঞ্চালক মঞ্চ থেকে তাকে থামিয়ে দেন এবং নাম প্রকাশে বাধা দেন। তবু আম্মার থামেন না, তিনি আবারও কয়েকজন শিক্ষকের নাম উচ্চারণ চালিয়ে যান, যার মধ্যে ছিলেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য গোলাম সাব্বির সাত্তার।

সঞ্চালক পুনরায় মঞ্চ থেকে উঠে এসে আম্মারকে থামাতে অনুরোধ করেন এবং বলেন, “অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে”। আম্মার উত্তর দেন যে, “অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য তখনই নষ্ট হয় যখন ফ্যাসিস্টদের সামনে বসিয়ে গণভোটের আলোচনা করা হয়”।

এই ঘটনার ফলে সভার পরিবেশে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয় এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সঞ্চালক ও উপাচার্য দুজনই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন, তবে বিতর্কের তীব্রতা কমাতে পারেননি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মতবিনিময় সভা সরাসরি নির্বাচনের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা করার উদ্দেশ্য ছিল, তবে রাকসু জিএসের নাম ঘোষণা ও সঞ্চালকের হস্তক্ষেপের ফলে মূল বিষয় থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এই ধরনের ঘটনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মতপ্রকাশের সীমা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। ভবিষ্যতে এমন সভায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা ও সময়সীমা নির্ধারণ করা উচিত, যাতে আলোচনা মূল বিষয়ের ওপর কেন্দ্রীভূত থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় বিরোধ এড়ানো যায়।

শিক্ষা সংক্রান্ত কোনো নীতি বা প্রক্রিয়া নিয়ে মতবিনিময় করার সময় সকল পক্ষের মতামতকে সম্মানজনকভাবে উপস্থাপন করা জরুরি। একই সঙ্গে, সভার আয়োজকরা সঞ্চালক ও নিয়ন্ত্রক দলের ভূমিকা স্পষ্ট করে রাখলে অনুরূপ পরিস্থিতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

অবশেষে, রাকসু জিএসের এই পদক্ষেপ এবং সঞ্চালকের হস্তক্ষেপ উভয়ই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে মতপ্রকাশের সীমা ও দায়িত্ব সম্পর্কে পুনর্বিবেচনার দরকারীয়তা নির্দেশ করে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয়েরই উচিত গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা, যাতে গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে ওঠে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments