অ্যান্টি-করাপশন কমিশন (এসিসি) আজ ঢাকা সদর দফতরে অনুষ্ঠিত মিডিয়া ব্রিফিং-এ জানায়, শীঘ্রই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা ও বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান এবং তার সঙ্গে ৩৩ জনকে লক্ষ্য করে চারটি পৃথক মামলায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের মূল বিষয় হল, জানতা ব্যাংক থেকে এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ) সুবিধা ব্যবহার করে প্রায় ২,৮৫৮ কোটি টাকার হেরফের করা।
এসিসি ডিরেক্টর জেনারেল মো. আকতার হোসেন মিডিয়া ব্রিফিং-এ উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং সহযোদ্ধা হিসেবে কাজ করে, ইডিএফ-সমর্থিত ঋণগুলোকে কল্পিত ও নতুন গার্মেন্টস কোম্পানির নামে গ্রহণ করে। এরপর তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের লেটার অফ ক্রেডিট (এলসিএ) ব্যবহার করে কাল্পনিক রপ্তানি-আমদানি দেখিয়ে ‘অ্যাকোমোডেশন বিল’ তৈরি করে, এবং তহবিলকে স্থানান্তর, রূপান্তর ও স্তরবিন্যাসের মাধ্যমে লন্ডার করে।
এই তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন পাঁচ সদস্যের একটি টিম, যার নেতৃত্বে ছিলেন এসিসি ডেপুটি ডিরেক্টর মুহাম্মদ জয়নাল আবেদিন। টিমের অনুসন্ধানে প্রকাশ পায়, প্রথম মামলায় ‘ইয়েলো অ্যাপারেলস লিমিটেড’ নামে একটি নতুন সংস্থার নামে ঋণ অনুমোদন ও প্রদান করা হয়। অভ্যন্তরীণ আমদানি-রপ্তানি লেনদেন এবং প্রায় ৭০০টি অ্যাকোমোডেশন বিলের মাধ্যমে ৪৮.৯৭৮ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৪১৬.৩ কোটি টাকার তহবিল অপব্যবহার করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে ২৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
দ্বিতীয় মামলায় ‘পিঙ্ক মেকার লিমিটেড’ নামে আরেকটি কাল্পনিক সংস্থার মাধ্যমে ৭৯.৪৫ মিলিয়ন ডলার, প্রায় ৬৭৫.৩ কোটি টাকার হেরফেরের অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে মোট ২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তৃতীয় মামলায় ‘অ্যাপোলো অ্যাপারেলস লিমিটেড’ ব্যবহার করে ৮৪.৬০ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৭১৯.১ কোটি টাকার তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে, এবং এতে ২৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
চতুর্থ মামলায় ‘বেই সিটি অ্যাপারেলস লিমিটেড’ নামে একটি কাল্পনিক সত্তা থেকে ১২৩.১৯ মিলিয়ন ডলার, প্রায় ১,০৪৭ কোটি টাকার তহবিলের অপব্যবহার ও লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলায় ২৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সালমান ফজলুর রহমান এবং তার ভাই এ.এস.এফ. রহমানকে সব চারটি মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৩৩ জনের সঙ্গে ৩৩ জনের অতিরিক্ত সহ-অভিযুক্তদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
এসিসি জানিয়েছে, দায়ের করা মামলাগুলো শীঘ্রই আদালতে পেশ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চালু হবে। এছাড়া, কমিশন অতিরিক্ত প্রমাণ সংগ্রহ ও আর্থিক লেনদেনের বিশ্লেষণ চালিয়ে যাবে, যাতে সম্পূর্ণ জালিয়াতির পরিধি ও জড়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব নির্ণয় করা যায়।
এই মামলাগুলো দেশের আর্থিক সিস্টেমের দুর্নীতি মোকাবেলায় এক নতুন ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত এ ধরনের বৃহৎ পরিসরের ইডিএফ-ভিত্তিক জালিয়াতি মামলায় এ ধরনের একাধিক সংস্থা ও ব্যক্তির সমন্বয় দেখা যায়নি। ভবিষ্যতে আদালতের রায় এবং অতিরিক্ত তদন্তের ফলাফল দেশের আর্থিক স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



