বিপিএল দ্বিতীয় ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ২০ ওভারের মধ্যে ১৫৯ রান সংগ্রহ করে ৮ উইকেটের সঙ্গে শেষ করেছে। রাইডার্সের অধিনায়ক নুরুল হাসান সোয়াহ টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেন, ফলে রাজশাহীর ব্যাটিংয়ে প্রথমে চাপ তৈরি হয়।
রাজশাহীর ক্যাপ্টেন নাজমুল হোসেন শান্তের উন্মুক্ত শুরুর সঙ্গে দলটি দ্রুত ছন্দে ঢুকে যায়। শান্ত প্রথম ৪১ রান যোগ করেন, তবে তার পরপরই রান আউটে গিয়ে ইনিংসের গতি হ্রাস পায়।
শান্তের আউটের পর, অফসাইডে বল ঠেলে দ্বিতীয় রানের চেষ্টা করার সময় নন-স্ট্রাইক পার্টনার নাহিদ রানা স্টাম্প ভেঙে দেন। বাস্তবে সেখানে দ্বিতীয় রান নেওয়ার সুযোগই ছিল না, তবে স্টাম্প ভাঙা রানের আউটের কারণ হয়ে দলকে বড় ধাক্কা দেয়।
আউট হওয়ার পর শান্ত ড্রেসিং রুমে ফিরে গিয়ে নিজের ওপর বিরক্তি প্রকাশ করেন, যা দলের মনোভাবকে প্রভাবিত করে। এই রান আউটটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং রংপুর রাইডার্সকে আবার নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনে।
রাইডার্সের শুরুর দিকে তানজিদ হাসান তামিমের ক্যাচে ১২ রান করে দলকে দৃঢ় সূচনা দিতে সাহায্য করে লিটন দাস। এরপর বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের তত্ত্বাবধানে আরও দুটি চমৎকার ক্যাচ নেওয়া হয়, যা রাইডার্সের দৌড়কে ত্বরান্বিত করে।
প্রথম বড় ধাক্কার পর, শাহিবজাদা ফারহান ও শান্তের সঙ্গে ৯৩ রানের জুটি গড়ে রাজশাহীর বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত দেয়। এই অংশীদারিত্ব দলকে লক্ষ্য অর্জনের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
শান্তের আউটের সঙ্গে ফারহানও দ্রুতই আউট হন। তিনি ৬৫ রান সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে দুইটি ছক্কা ও আটটি চারের রয়েছে, তবে তার দ্রুত পতন রাজশাহীর শিকড়কে দুর্বল করে দেয়।
রাইডার্সের বোলাররা এরপর রাজশাহীর ব্যাটারদের আর সুযোগ না দিয়ে ধারাবাহিক চাপ বজায় রাখে। পাকিস্তানি অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফ বিশেষভাবে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দেখিয়ে তিনটি উইকেট নেয়।
আশরাফ ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলেই দুটি উইকেট নেয়, যা হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত তা পূরণ হয় না। তার এই আউটিং দলকে গুরুত্বপূর্ণ গ্যাপ দিয়ে দেয়।
রাজশাহীর শেষ স্কোর ১৫৯ রান, আট উইকেটের সঙ্গে শেষ হয়। রাইডার্সের লক্ষ্য এখন ১৬০ রান, যা অর্জন করলে তারা ম্যাচ জিতবে।
পরবর্তী ম্যাচে রাইডার্সের সামনে আবার নতুন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করবে, তবে এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাসকে বাড়িয়ে তুলবে এবং টুর্নামেন্টে শীর্ষে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বাড়াবে।



