ঢাকা, শেরে বাংলা নগর – বৃহস্পতিবার সকালে শেরে বাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর দলীয় কর্মীদের সামনে একটি মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার মতো গুণাবলি তার বড় ছেলে তারেক রহমানের মধ্যেও বিদ্যমান।
বাবরের বক্তব্যের সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতারা, পার্টির কর্মী ও পরিবারের সদস্যরা। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষে তিনি মাটিতে বসে থাকা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে, দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় গুণাবলি নিয়ে আলোচনা করেন।
বাবর বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের রক্ষায় তিনি যে গুণাবলি খুঁজে পেয়েছিলেন, তা আগে অন্য কোনো নেতায় দেখেননি। তিনি এই গুণাবলিকে “মায়ের মতোই” বর্ণনা করেন, যা তিনি খালেদা জিয়ার সঙ্গে যুক্ত করেন।
“খালেদা জিয়ার মতোই দৃঢ়তা, দেশপ্রেম ও অটল নীতি তারেকের মধ্যে রয়েছে,” বাবর মন্তব্য করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই গুণাবলি পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাবর অতীতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন এবং তার দেশপ্রেমের উদাহরণ সরাসরি দেখেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে জিয়া কখনো কোনো আপস করেননি।
“আমি তার সঙ্গে বহুবার কাজ করেছি; তার দেশপ্রেমের দৃঢ়তা কখনো কমে না দেখেছি,” তিনি যোগ করেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে জিয়ার নেতৃত্বের গুণাবলি সম্পর্কে গভীর ধারণা দিয়েছে।
বিএনপি-র বর্তমান কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানের ভূমিকা সাম্প্রতিক সময়ে পুনরায় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাবর তারেকের নেতৃত্বে পার্টির পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বাবর বলেন, তারেকের মধ্যে তিনি যে গুণাবলি খুঁজে পেয়েছেন, তা পার্টির অভ্যন্তরীণ সংহতি ও বাহ্যিক প্রতিযোগিতার মুখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। “তারেকের নেতৃত্বে আমরা নতুন দিকনির্দেশনা পেতে পারি,” তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপি বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে পুনরায় শক্তি সঞ্চার করার চেষ্টা করছে। পার্টির কর্মীরা তারেকের নেতৃত্বে বিভিন্ন স্তরে সংগঠন পুনর্গঠন ও ভোটার সংযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা চালু করেছে।
বাবরের মন্তব্যের পর, পার্টির কিছু বিশ্লেষক ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। তারা অনুমান করেন, যদি তারেকের নেতৃত্বে পার্টি ঐতিহাসিক গুণাবলি বজায় রাখতে পারে, তবে আসন্ন নির্বাচনে পার্টির অবস্থান শক্তিশালী হতে পারে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো এই মন্তব্যকে পার্টির অভ্যন্তরীণ গতি-প্রকৃতির একটি সূচক হিসেবে দেখছে। তারা জোর দিয়ে বলছে, গুণাবলি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত গুণ নয়, কার্যকর নীতি ও কৌশলগত পরিকল্পনা দরকার।
বাবর শেষ করে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যে কোনো রাজনৈতিক শক্তি যদি ঐ গুণাবলি বজায় রাখে, তবে তা দেশের স্বার্থে কাজ করবে। তিনি সকল রাজনৈতিক নেতাকে দেশের স্বার্থে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
এই মন্তব্যের পর, পার্টির কর্মীরা তারেকের নেতৃত্বে নতুন কর্মসূচি চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভবিষ্যতে পার্টি কীভাবে এই গুণাবলিকে বাস্তবায়ন করবে, তা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলবে।



