যুক্তরাষ্ট্রের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো আগামী বছর থেকে কমপক্ষে ৩৫০টি ব্র্যান্ডেড ওষুধের তালিকাভিত্তিক দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এতে কোভিড‑১৯, আরএসভি ও শিংলসের টিকাদান এবং ক্যান্সার চিকিৎসা ইব্র্যান্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ অন্তর্ভুক্ত। এই তথ্য স্বাস্থ্য গবেষণা সংস্থা ৩ এক্সিস অ্যাডভাইজরসের বিশ্লেষণ থেকে প্রাপ্ত।
গত বছর তুলনায় দাম বাড়ানোর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে; ২০২৫ সালে ২৫০টির বেশি ওষুধে মূল্য বৃদ্ধি ঘোষিত হয়েছিল, আর ২০২৬ সালে তা ৩৫০টি ছাড়িয়ে যাবে। এই বছরের গড় মূল্য বৃদ্ধি প্রায় ৪ শতাংশ, যা পূর্ববর্তী বছরের গড়ের সমান।
বর্ধিত মূল্যের তালিকায় কোভিড‑১৯, আরএসভি এবং শিংলসের টিকাদান, পাশাপাশি ইব্র্যান্সের মতো উচ্চমূল্যের ক্যান্সার থেরাপি অন্তর্ভুক্ত। যদিও দাম বাড়বে, এই বৃদ্ধি ফার্মেসি বেনিফিট ম্যানেজারদের জন্য কোনো রিবেট বা অতিরিক্ত ছাড়কে অন্তর্ভুক্ত করে না।
একই সময়ে প্রায় নয়টি ওষুধের তালিকামূল্য কমানোর পরিকল্পনাও প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষ করে বোহরিঙ্গার ইনগেলহাইমের ডায়াবেটিসের ওষুধ জার্ডিয়ান্সে ৪০ শতাংশের বেশি ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, এবং একই কোম্পানি ও ইলি লিলি এই ওষুধের সঙ্গে যুক্ত তিনটি সংশ্লিষ্ট পণ্যের দামও হ্রাস করবে।
জার্ডিয়ান্স যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার প্রোগ্রামের জন্য ২০২৬ সালে সরকারী দরকষাকষির আওতায় শীর্ষ দশটি ওষুধের মধ্যে একটি, যেখানে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মূল্য হ্রাস করা হয়েছে। এই দরকষাকষি রোগীর আর্থিক বোঝা কমাতে লক্ষ্য রাখে, যদিও সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম এখনও অন্যান্য উন্নত দেশগুলোর তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের সমতুল্য দামের দিকে নামিয়ে আনতে চাপ দিচ্ছেন। তবে এই চাপের মাঝেও কোম্পানিগুলো নতুন দামের পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে, যা বাজারে উচ্চমূল্যের ধারাকে অব্যাহত রাখে।
ট্রাম্পের সরকার নিম্ন-আয়ের রোগী ও ক্যাশ পেয়ারদের জন্য মেডিকেড প্রোগ্রামের অধীনে ১৪টি ফার্মা কোম্পানির সঙ্গে দাম নিয়ে চুক্তি করেছে। এই চুক্তিগুলোতে কিছু ওষুধের দাম কমলেও, একই সময়ে বেশ কয়েকটি বড় কোম্পানি জানিয়েছে যে তারা জানুয়ারি ১ থেকে কিছু ওষুধের দাম আবার বাড়াবে।
পফাইজার, স্যানোফি, বোহরিঙ্গার ইনগেলহাইম, নোভার্টিস এবং জিএসকে সহ বেশ কয়েকটি প্রধান ফার্মা সংস্থা জানিয়েছে যে তারা নতুন বছরের প্রথম দিনেই নির্দিষ্ট ওষুধের দাম বৃদ্ধি করবে। এই বৃদ্ধি সামগ্রিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতাকে আরও দৃঢ় করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদিও সরকারী চুক্তিগুলোকে রূপান্তরমূলক বলা হচ্ছে, বাস্তবে এগুলো মূল দামের কাঠামোতে সামান্যই প্রভাব ফেলবে। রোগীর পকেটের ওপর সরাসরি প্রভাব কমাতে আরও ব্যাপক নীতি ও দরকষাকষি প্রয়োজন। আপনার মতামত কী? আপনি কি মনে করেন এই ধরনের চুক্তি সত্যিই রোগীর জন্য যথেষ্ট সহায়ক হবে?



