33 C
Dhaka
Friday, May 8, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধসারজিস আলমের দাবি: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ের মধ্যে ওসমান হাদির খুনিদের দেশে ফেরত

সারজিস আলমের দাবি: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ের মধ্যে ওসমান হাদির খুনিদের দেশে ফেরত

ঢাকা, ১ জানুয়ারি ২০২৬ – জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ের মধ্যে শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি এই দাবি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করে দেশের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

শ্রীমন্ত শরীফ ওসমান হাদি ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ বিকেল প্রায় ১৪:২০ টায় পল্টন থানা, বক্স কালভার্ট রোডে গুলিবিদ্ধ হন। তিনি মতিঝিল মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন, তখন দুজন গুলিবিদ্ধের লক্ষ্যবস্তু হয়ে গুলি চালানো হয়। গুলির প্রভাব তার গাড়িতে আঘাতের ফলে গুরুতর আঘাতের কারণ হয়।

প্রাথমিকভাবে হাদিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তার অবস্থা স্থিতিশীল না থাকায় পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসা অবস্থা খারাপ হওয়ায় ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সেবা নেওয়া হয়।

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা চলাকালীন হাদির শারীরিক অবস্থা অবনতির শিকার হয় এবং ১৮ ডিসেম্বর রাত ২১:৪৫ টায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা গোষ্ঠীর মধ্যে গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

হত্যার ১৮ দিন পর, ২৮ ডিসেম্বর, ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ডিএমপি অতিরিক্ত কমিশনার এস.এন. নজরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে যে সন্দেহভাজনরা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে প্রবেশ করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছয়জন স্বীকারোক্তি প্রদানকারী ব্যক্তিরা ইতিমধ্যে জবানবন্দি দিয়েছেন।

অধিক তদন্তে চারজন সাক্ষী ১৬৪ ধারার অধীনে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন, যা মামলার আইনি দিককে শক্তিশালী করে তুলেছে। স্বীকারোক্তি প্রদানকারী ও সাক্ষীদের বিবরণ অনুসারে গুলিবিদ্ধের সময় গুলি চালানো গাড়ি দ্রুতই পল্টন থানা থেকে দূরে সরে গিয়েছিল। পুলিশ এখনো সন্দেহভাজনদের সুনির্দিষ্ট সনাক্তকরণ ও গ্রেফতার প্রক্রিয়ায় কাজ করছে।

সারজিস আলমের পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, “১ জানুয়ারি ২০২৬! ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এর মধ্যে শহীদ ওসমান হাদীর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার ও রায় কার্যকর করতে হবে।” তিনি এই দাবি দিয়ে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানান, যাতে শিকারের পরিবারকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, সন্দেহভাজনদের দেশে ফেরত আনা হলে তাদের বিরুদ্ধে গৃহীত শাস্তি কার্যকর করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশে গৃহীত শাস্তি অনুযায়ী, যদি অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, তবে তা রায়ের পরপরই কার্যকর করা হয়। তবে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে, যদি সন্দেহভাজনরা বিদেশে থাকে, তবে তাদের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে।

ডিএমপি অতিরিক্ত কমিশনারের মতে, বর্তমান তদন্তে প্রমাণের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়া হবে। পুলিশ দল ইতিমধ্যে সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়ে দিয়েছে এবং মেঘালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করছে।

এই মামলায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, যাতে শিকারের পরিবারকে ন্যায়বিচার প্রদান করা যায় এবং ভবিষ্যতে এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়। সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে মামলাটি দ্রুত সমাধানে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অবশেষে, সারজিস আলমের দাবি এবং ডিএমপির তদন্তের অগ্রগতি উভয়ই দেশের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments