শাফিকুর রহমান, জামায়াত-এ-ইসলামির আমীর, আজ চট্টগ্রামের লোহাগড়া উপজেলায় পাডুয়া হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত র্যালিতে ভোটারদের দুই ধাপের নির্দেশনা দিলেন। তিনি প্রথমে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত রেফারেন্ডামে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে এবং পরের নির্বাচনে ১১টি দলীয় জোটের প্রার্থীদের সমর্থন করতে আহ্বান জানান।
র্যালিতে শাফিকুর রহমান জোর দিয়ে বললেন, ভোটের প্রথম পর্যায়ে রেফারেন্ডামের ফলাফল ‘হ্যাঁ’ হওয়া উচিত, আর দ্বিতীয় পর্যায়ে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দেওয়া হবে। তিনি এই দুই ধাপের কৌশলকে দেশের রাজনৈতিক পুনর্গঠনের মূল ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
শাফিকুর আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের গণউত্থানের সাফল্যই বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের ভিত্তি। তিনি সতর্ক করে জানান, যারা এই উত্থানকে স্বীকার করবে না, তাদের ২০২৬ সালে ‘লাল কার্ড’ দেখানো হবে। এই মন্তব্যটি দেশের রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ও ঐতিহাসিক স্মৃতির প্রতি গুরুত্বারোপ করে।
অধিকন্তু, শাফিকুর জোর দিয়ে বলেন, জামায়াত-এ-ইসলামির জন্য নয়, বরং দেশের ১৮ কোটি নাগরিকের জন্য জয় অর্জন করা তাদের লক্ষ্য। তিনি নিজের দলকে জাতীয় স্বার্থের সেবা হিসেবে উপস্থাপন করে, ব্যক্তিগত পার্টি স্বার্থের বাইরে বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।
র্যালিতে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) সভাপতি কোল (অবসরপ্রাপ্ত) ওলি আহমদও বক্তব্য রাখেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা অর্জনের কথা স্মরণ করে বলেন, পাকিস্তান আমাদের শোষণ করে আমাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিল।
ওলি আহমদ তার রাজনৈতিক যাত্রা সম্পর্কে ব্যাখ্যা করে জানান, তিনি এবং আনিসুর রহমান জিকো একসাথে বিএনপি গঠন করেছিলেন। তবে ২০০৬ সালে তিনি লক্ষ্য করেন, বিএনপি আর শহীদ আনিসুর রহমান জিকো বা খালেদা জিয়ার আদর্শে দাঁড়িয়ে নেই, তাই তিনি দল ত্যাগ করেন। এই সিদ্ধান্তকে তিনি পার্টির আদর্শিক বিচ্যুতি হিসেবে উপস্থাপন করেন।
ওলি আহমদ আরও উল্লেখ করেন, ১১-দলীয় জোটের মূল উদ্দেশ্য হল অবসরপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগীদের পরাজিত করা। তিনি বলেন, যারা ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে, তাদের শক্তি হ্রাস করা জরুরি, যাতে দেশের স্বায়ত্তশাসন রক্ষা পায়।
ভারতকে লক্ষ্য করে ওলি আহমদ সতর্কতা প্রকাশ করেন, যদি ভারত বিশ্বাস করে যে তারা সহজে বাংলাদেশ দখল করতে পারবে, তবে তারা ১৫ দিনের মধ্যে ১০ কোটি মানুষকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তারা ভারতের বিরোধিতা করছে না, বরং দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য সতর্কতা দিচ্ছে।
র্যালির শেষ পর্যায়ে শাফিকুর এবং ওলি আহমদ উভয়েই দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদী সুরে কথা বলেন। শাফিকুরের ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান এবং ১১-দলীয় জোটের সমন্বয় দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন মোড় দিতে পারে, বিশেষত আসন্ন রেফারেন্ডাম ও নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে। উভয় নেতার বক্তব্য দেশের স্বায়ত্তশাসন, জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জোর দেয়, যা পরবর্তী রাজনৈতিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



