যশোরের একটি র্যালিতে আজ বিকেলে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ১৩তম সংসদীয় নির্বাচনের ভোট গণনা বিলম্বের কোনো প্রচেষ্টা মোকাবেলায় সকলকে সতর্কতা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি ভোট গণনা দীর্ঘায়িত করার কোনো অজুহাতের মুখে দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধের আহ্বান জানান।
তারেক বলেন, “যদি কেউ ভোট গণনা বেশি সময় নেবে বলে অজুহাত তৈরি করে, তবে তা মোকাবেলা করা দরকার”। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে গণনা সময় বাড়ানোর নানা গল্প শোনা যাচ্ছে, যা তিনি অবৈধ বলে চিহ্নিত করেছেন।
বছরের পর বছর ভোটের অভিজ্ঞতা থাকা দেশের নাগরিকদের গণনা সময়ের বাস্তবতা সম্পর্কে তিনি দৃঢ়ভাবে জোর দেন। “১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ সালে তারা ভোট দিয়েছে; তাই গণনা কতক্ষণ সময় নেবে তা তারা জানে” তিনি বলেন।
তারেকের মতে, একগুচ্ছ গোষ্ঠী এই নির্বাচনের পরিবেশকে বিতর্কিত করতে এবং প্রক্রিয়াকে বাধা দিতে চায়। তিনি এই গোষ্ঠীর উদ্দেশ্যকে নির্বাচনকে অস্থির করে তোলার প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন।
এমন পরিস্থিতিতে তিনি সকল সমর্থককে সতর্ক ও চৌকস থাকতে অনুরোধ করেন, যাতে আবার কেউ ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত না হতে পারে। “সতর্ক থাকুন, যাতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আপনার ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া না যায়” তিনি জোর দিয়ে বলেন।
বিএনপি নেতৃত্বের এই আহ্বান নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সময়মতো সম্পন্ন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। তিনি ভোট গণনা দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন হওয়া উচিত, তা নিশ্চিত করার জন্য সকল স্তরে সহযোগিতা দাবি করেন।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে গণনা সময়সূচি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। র্যালিতে উপস্থিত অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরাও এই বিষয়ে মন্তব্য করেননি।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশিত না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তবে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো বিলম্বের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশকারী দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ভোট গণনা বিলম্বের প্রচেষ্টা যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা নির্বাচনের বৈধতা ও ফলাফলের প্রতি জনমতের আস্থা ক্ষুণ্ণ করতে পারে। তাই সময়মতো গণনা সম্পন্ন করা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য।
গণনা শুরু হওয়ার পর পর্যবেক্ষক দল ও স্বতন্ত্র সংস্থাগুলো ফলাফল পর্যবেক্ষণে সক্রিয় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। গণনা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অংশগ্রহণের কথাও আলোচনায় রয়েছে।
তারেকের র্যালি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ভোট গণনা কোনো অযৌক্তিক বিলম্বের শিকার হবে না এবং সকল নাগরিকের ভোটের অধিকার রক্ষা করা হবে। তার এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে সময়মতো গণনার গুরুত্বকে পুনরায় উজ্জ্বল করেছে।
ভবিষ্যতে গণনা সম্পন্ন হওয়ার পর ফলাফল ঘোষণার সময় কোনো অনিচ্ছাকৃত দেরি না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, এটাই তারেকের শেষ আহ্বান।



