কাফরুলের ইব্রাহিমপুর থেকে মিরপুর‑১৪ নম্বর মোড়ের দিকে যাওয়া রোড বিভাজকের ওপর দুইটি বিশাল রঙিন ব্যানার টানা হয়েছে। একটিতে বিএনপি প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খানের নাম ও ধানের শীষ প্রতীক দেখা যায়, আর অন্যটিতে জামায়াত-এ-ইসলামি আমির মো. শফিকুর রহমানের নাম ও দাঁড়িপাল্লা চিহ্ন রয়েছে। ধানের শীষ ব্যানারের ঠিক নিচে ছোট একটি রঙিন শিটে “কলম মার্কায় ভোট দিন” এবং “আমি ছোট, আমাকে মারবেন না” লেখা রয়েছে, যা সাধারণত রিকশা বা অটো রিকশার পেছনে দেখা যায়।
এই ব্যানারে “আমি ছোট” বাক্যাংশের ব্যবহার সম্পর্কে ঢাকা‑১৫ আসনের জনতার দলের প্রার্থী খান শোয়েব আমান উল্লাহ প্রোথোম আলোর সঙ্গে কথা বলার সময় ব্যাখ্যা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বড় দলের প্রার্থীদের সমর্থকরা পোস্টার লাগানোর সময় প্রায়ই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, তাই তিনি নিজেকে “ছোট” বলে চিহ্নিত করে কোনো ধরনের আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে চেয়েছেন।
শোয়েব আমান উল্লাহ জানান, তিনি ইউরোপীয় ধাঁচে প্রচার চালাচ্ছেন; বাড়ি বাড়ি গিয়ে এবং চা দোকানে সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন। তিনি বলেন, এই পদ্ধতি তাকে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে সহায়তা করছে এবং প্রচলিত পোস্টার-ভিত্তিক প্রচার থেকে আলাদা।
ঢাকা‑১৫ আসনটি ঢাকা উত্তর সিটির ৪, ১৩, ১৪ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড, যার মধ্যে মিরপুর ও কাফরুল থানা অন্তর্ভুক্ত, মোট ৩,৫১,৭১৮ ভোটার রয়েছে। এই নির্বাচনী চক্রে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জামায়াত-এ-ইসলামির আমির মো. শফিকুর রহমানের পক্ষে তার দলের কর্মীরা প্রথম দিন থেকেই সক্রিয়ভাবে প্রচার চালাচ্ছেন; তিনি নিজেও জনসভা, পথসভা ও নারী সমাবেশের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তুলছেন।
বিএনপি প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খান, যিনি যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, নিয়মিতভাবে তার নির্বাচনী এলাকায় জনসংযোগ বজায় রাখছেন। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে সিপিবি (কাস্টে প্রতীক) থেকে আহাম্মদ সাজেদুল হক, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) থেকে মো. সামসুল হক, বাংলাদেশ জাসদ (মোটরগাড়ি-কার) থেকে আশফাকুর রহমান, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা) থেকে মোবারক হোসেন এবং জনতার দলের (প্রজাপতি) থেকে নিলাভ পারভেজ অন্তর্ভুক্ত।
প্রতিটি দলের প্রচারমূলক উপকরণে তাদের নিজস্ব প্রতীক স্পষ্টভাবে দেখা যায়; ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, কাস্টে, লাঙ্গল, মোটরগাড়ি-কার, একতারা এবং প্রজাপতি। তবে শোয়েব আমান উল্লাহের ব্যানারে দেখা ছোট স্লোগানটি ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে, কারণ এটি প্রচলিত রিকশা-স্লোগানের পরিবর্তে নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে ব্যবহার করা হয়েছে।
এই ব্যানারগুলো কেবল ভিজ্যুয়াল প্রচার নয়, বরং প্রার্থীদের নিজস্ব অবস্থান ও কৌশলও প্রকাশ করে। শোয়েব আমান উল্লাহের ‘ছোট’ উল্লেখের মাধ্যমে তিনি বড় দলের প্রার্থীদের সঙ্গে তুলনায় নিজের নিরাপত্তা ও স্বতন্ত্রতা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যা ভোটারদের মধ্যে নতুন ধরণের রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকা‑১৫ আসনের এই ধরনের প্রচারমূলক কার্যক্রম ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রার্থীরা বিভিন্ন পদ্ধতিতে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে; পোস্টার, ব্যানার, সরাসরি ঘরে ঘরে সফর এবং চা দোকানে আলোচনা—all এই কৌশলগুলো আসনের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



