বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, নারী সমাজের অর্ধেক অংশ গঠন করে এবং তাই তাদের সম্মান, অধিকার ও ক্ষমতায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। সমাবেশটি সাধারণ রাজনৈতিক প্রতিবাদের বদলে সামাজিক ও নৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে, যা নারীজনের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য ও নেতিবাচক মনোভাবের বিরোধিতা করে।
সেলিমা রহমানের মতে, নারী জনগোষ্ঠীর প্রতি বিএনপির নীতি ধারাবাহিকভাবে সমর্থনশীল, ফলে নারীরা দলকে ঘনিষ্ঠভাবে গ্রহণ করে। তিনি উল্লেখ করেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) প্রথমে নারীর সামাজিক মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন, আর আজকের দিনে আবারও নারীর অবস্থানকে পিছনে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি জিয়াউর রহমানের (শহীদ রাষ্ট্রপতি) নারী শিক্ষার ও কর্মসংস্থানের প্রতি অবদানের কথা স্মরণ করেন, যিনি মা ও মাতৃভূমিকে সমানভাবে পবিত্র বলে গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করতেন।
বিএনপি শাসনামলে গ্রামীণ নারীরা শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে দেশের অর্থনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে বলে তিনি জোর দেন। তিনি উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করেন, নারীরা সংসদ, প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও বিভিন্ন পেশায় দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন। এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন যে, যারা নারীর বাইরে কাজ করা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন, তারা ভুলে যান যে দেশের লাখো নারী পরিবারের ভরণপোষণের জন্য সম্মানের সঙ্গে কাজ করছেন এবং সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
বিএনপি নেত্রী আরও উল্লেখ করেন, ভোটের সময় নারীদের প্রতি সম্মান দেখানো এবং পরে তাদের অবহেলা করা রাজনৈতিক ও নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য। তিনি দাবি করেন, নারীর ভোটের গুরুত্বকে উপেক্ষা করা কোনো দলই দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ব্যর্থ হবে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, শাসনকালে নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়নের বিষয়ে আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দলও সমান গুরুত্ব আরোপের দাবি করে আসছে। তবে তারা বিএনপির শাসনামলে নারীর উন্নয়নকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে ব্যর্থতা উল্লেখ করে, বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে অবকাঠামো ও সামাজিক সেবার ঘাটতি তুলে ধরেছে। এই পার্থক্য ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় নারীর ভোটের প্রভাবকে আরও জটিল করে তুলবে।
বিএনপি ও বিরোধী দল উভয়েরই নারী ক্ষমতায়নের জন্য নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করা সত্ত্বেও, তাদের পদ্ধতি ও অগ্রাধিকার ভিন্ন। সেলিমা রহমানের এই বক্তব্যের পর সমাবেশে উপস্থিত নারীরা একমত হয়ে তালি দিলেন, যা নারী অধিকার সংক্রান্ত আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করেছে। সমাবেশটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই ঘটনার সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে মন্তব্য করতে শুরু করেন, বিশেষ করে নারীর ভোটের গুরুত্ব এবং পার্টি ভিত্তিক সমর্থনের পরিবর্তনশীল গতিপথের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।



