১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ৬৮ জন বাংলাদেশি নারী অধিকার কর্মী একত্রিত হয়ে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে ইজরায়েল জেলখানায় ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর যৌন নির্যাতন ও অপমানের বিষয়ে পশ্চিমা নারীবাদীর নীরবতা ও পরোক্ষ সমর্থনকে কঠোরভাবে নিন্দা করেন। এই বিবৃতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের প্রতিবেদনকে ভিত্তি করে তৈরি, যেখানে ইজরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী, ইস্রায়েল জেল পরিষেবা (IPS) এবং জেল নিরাপত্তা কর্মীদের দ্বারা করা অপরাধের উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে ফিলিস্তিনি পুরুষ, নারী ও শিশুরা ইজরায়েল জেলখানায় নিয়মিতভাবে যৌন নির্যাতন, অপমান ও মানবিক মর্যাদা হরণে ভুগছে, যা আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার মানদণ্ডের সরাসরি লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই ধরনের অপরাধগুলো প্রায়শই গোপনীয়ভাবে চালানো হয় এবং শিকারদের প্রতিবেদন করার সুযোগ সীমিত থাকে।
পশ্চিমা নারীবাদী গোষ্ঠীর এই নীরবতা, কর্মীরা দাবি করেন, রঙভিত্তিক পক্ষপাতের প্রকাশ এবং তাদের নীতি-নির্ধারণে দ্বৈত মানদণ্ডের ইঙ্গিত দেয়। তারা উল্লেখ করেন, “যদি কোনো নারীবাদী গোষ্ঠী অন্য দেশে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা নিন্দা করে, তবে ইজরায়েল কর্তৃক সংগঠিত অপরাধকে স্বীকার না করা হলে তা নারীবাদ নয়, বরং যুদ্ধাপরাধে অংশগ্রহণের সমতুল্য”।
এই যুক্তি থেকে স্পষ্ট হয় যে, নারী অধিকার আন্দোলনকে ন্যায়, মর্যাদা ও জীবনের অধিকারকে ভিত্তি করে গড়ে তুলতে হবে, এবং কোনো রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণে লিঙ্গভিত্তিক নির্যাতনকে উপেক্ষা করা হলে তা আন্দোলনের মূল নীতির সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করে। কর্মীরা জোর দিয়ে বলেন যে, ইজরায়েল জেলখানায় সংঘটিত প্রতিটি যৌন নির্যাতনের জন্য দায়িত্বশীলদের ওপর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জবাবদিহিতা আরোপ করা আবশ্যক।
বিবৃতিতে উল্লেখিত স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে গবেষক ও মানবাধিকার কর্মী রোজিনা বেগম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কাজালিয়া শেহরিন ইসলাম, ড. সামিনা লুথফা, নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. দিনা সিদ্দিকি, মানবাধিকার কর্মী খুশি কবির, গবেষক ড. সায়দিয়া গুলরুখ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাদিয়া অরমান অন্তর্ভুক্ত। এই বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সমর্থন বিবৃতির প্রভাবকে বাড়িয়ে তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বিষয়টির দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি করেছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের সমন্বিত প্রতিবাদ পশ্চিমা নারীবাদী সংগঠনগুলোর নীতি-নির্ধারণে চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকার রক্ষায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে উৎসাহিত করতে পারে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে এই অভিযোগগুলোকে তদন্তের অগ্রাধিকার দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইতিহাসে ইজরায়েল জেলখানায় যৌন নির্যাতনের অভিযোগ বহুবার উত্থাপিত হয়েছে; জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদন এবং মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থার রিকর্ডে এই ধরনের অপরাধের ধারাবাহিকতা রেকর্ড করা আছে। পূর্বে প্রকাশিত রিপোর্টগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি মানসিক ও যৌন নির্যাতনও বন্দিদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ঘটছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের অধীনে অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনের স্বায়ত্তশাসন ও মানবাধিকার রক্ষার পক্ষে সমর্থন প্রকাশ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে, দেশের নারী অধিকার কর্মীদের সমন্বিত প্রতিবাদ সরকারী নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের মানবিক অবস্থানকে শক্তিশালী করে।
বিবৃতিতে উল্লেখিত দাবি অনুযায়ী, যদি পশ্চিমা নারীবাদী গোষ্ঠী এই বিষয়কে উপেক্ষা করে থাকে, তবে তা কেবলমাত্র ফিলিস্তিনি বন্দিদের কষ্ট বাড়াবে না, বরং আন্তর্জাতিক নারীবাদী আন্দোলনের নৈতিক ভিত্তিকেও ক্ষয় করবে। তাই, কর্মীরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছেন যে, ইজরায়েল জেলখানায় সংঘটিত যৌন নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
এই দাবি এবং সমর্থনমূলক স্বাক্ষরগুলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, কূটনৈতিক মঞ্চ এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করেছে, যা ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকার রক্ষায় আরও দৃঢ় পদক্ষেপের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।



