28 C
Dhaka
Sunday, May 10, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধএকজন নারী দাবি করেছেন জেফ্রি এপস্টেইন তাকে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যুক্তরাজ্যে পাঠিয়েছিলেন

একজন নারী দাবি করেছেন জেফ্রি এপস্টেইন তাকে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যুক্তরাজ্যে পাঠিয়েছিলেন

একজন নারী তার আইনজীবীর মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন যে, কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন তাকে ২০১০ সালে যুক্তরাজ্যে পাঠিয়ে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে রাত কাটাতে সহায়তা করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সময়ে নারী ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন না এবং তার বয়স ছিল বিশের শেষের দিকে।

আইনজীবী ব্র্যাড এডওয়ার্ডস জানান, তার মক্কেলকে অ্যান্ড্রুর বাসভবন, রয়্যাল লজ, মাউন্টব্যাটেন‑উইন্ডসরের মধ্যে রাতের খাবার ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করা হয়। রাতের পর, তাকে বাকিংহাম প্যালেসে নিয়ে গিয়ে ঘুরিয়ে দেখানো হয় এবং সেখানে চা পান করার সুযোগও দেওয়া হয়।

এডওয়ার্ডস উল্লেখ করেন, “আমরা এমন এক নারীকে প্রতিনিধিত্ব করছি, যাকে এপস্টেইন প্রিন্স অ্যান্ড্রুর কাছে পাঠিয়েছিলেন এবং যাকে রয়্যাল লজে রাত কাটানোর পর রাজপ্রাসাদে ঘুরে দেখার সুযোগও দেওয়া হয়।” এই বিবরণে এপস্টেইনের মাধ্যমে প্রিন্সের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগের প্রথম প্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবিসি নিউজ অ্যান্ড্রুর কাছ থেকে এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য পেতে ব্যর্থ হয়েছে। রাজপ্রাসাদের অতিথি তালিকা সাধারণত রেকর্ড করা হয়, তবে গোপনীয়তা বজায় রাখার কারণে এই নারীর পরিচয় প্রকাশ না করে তার ভ্রমণের সত্যতা যাচাই করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বাড়িতে রাত কাটানোর এই অভিযোগের পাশাপাশি, এপস্টেইনের শিকার ২০০‑এর বেশি নারীর প্রতিনিধিত্বকারী এডওয়ার্ডস পূর্বে ভর্জিনিয়া জিউফ্রের মামলায়ও আইনগত সহায়তা প্রদান করেছেন। জিউফ্রের দাবি ছিল, ২০০১ সালে মাত্র সতেরো বছর বয়সে তাকে লন্ডনে নিয়ে গিয়ে প্রিন্সের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের জন্য বাধ্য করা হয়েছিল।

জিউফ্রের মতে, ২০০১ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে তাকে আরও দু’বার প্রিন্সের সঙ্গে যৌন সংযোগে বাধ্য করা হয়; একবার নিউ ইয়র্কে, আরেকবার ক্যারিবীয় অঞ্চলে এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে। এই অভিযোগগুলোও এডওয়ার্ডসের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

জেফ্রি এপস্টেইন ২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌনকর্মে প্ররোচিত করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। তার শাস্তি পরের বছর জুলাই পর্যন্ত শেষ হয়, যদিও পরবর্তীতে তিনি ২০১৯ সালে গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত মুক্তি পেয়ে ছিলেন।

এডওয়ার্ডস যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ভিত্তিক একজন আইনজীবী, যিনি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক স্তরে বহু মামলায় ক্লায়েন্টকে প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তার মক্কেল প্রিন্সের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের আগে এবং পরে এপস্টেইনের সঙ্গে সংযোগের বিবরণ রয়েছে।

বিবিসি নিউজের অনুসন্ধানে জানা যায়, এপস্টেইনের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের অভিযোগে এখনো কোনো সরকারি তদন্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তবে এ ধরনের নতুন অভিযোগের ফলে যুক্তরাজ্যের সিকিউরিটি সার্ভিস এবং রয়্যাল হাউসের নিরাপত্তা বিভাগে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়তে পারে।

প্রিন্স অ্যান্ড্রু পূর্বে এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে বহুবার মিডিয়ার প্রশ্নের মুখে ছিলেন এবং ২০১৯ সালে এপস্টেইনের গ্রেফতার পর তিনি এই সম্পর্কের কোনো অবৈধ দিক স্বীকার না করার কথা প্রকাশ করেন। তবে নতুন অভিযোগগুলো তার পূর্বের বিবৃতির সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করে।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, এডওয়ার্ডসের ক্লায়েন্টের অভিযোগের ভিত্তিতে সিভিল মামলা দায়ের করা সম্ভব, যদিও প্রিন্স অ্যান্ড্রু নিজে কোনো আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হননি। যুক্তরাজ্যের আদালতে রয়্যাল লজ ও বাকিংহাম প্যালেসের অতিথি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হয় তা তদন্তের বিষয় হতে পারে।

এই সময়ে, এপস্টেইনের শিকার নারীদের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক মামলা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা এপস্টেইনের নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সঙ্গে তার সংযোগের ব্যাপক দৃষ্টিভঙ্গি উন্মোচন করতে পারে। নতুন অভিযোগের ফলে ভবিষ্যতে আরও তদন্ত ও আদালতিক প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments