ঢাকার বনানী এলাকায় তুরস্কের ভিসা আবেদন গ্রহণের জন্য নতুন কেন্দ্রের দরজা খুলে গেছে। তুর্কি দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, মসাইক ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার আগামীকাল সোমবার থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু করবে। কেন্দ্রটি ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের বাইরে কয়েকটি স্থানে পরিচালনা করলেও, এখন প্রথমবারের মতো ঢাকায় সেবা দেবে।
নতুন সেন্টারটি রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভিসা আবেদন গ্রহণ করবে, আর দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত পাসপোর্ট সংগ্রহের সময় নির্ধারিত। তবে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করার আগে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে, যা দূতাবাসের নির্দেশনা অনুসারে বাধ্যতামূলক।
সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার ফি তিন মাসের জন্য ২৪,৭৫০ টাকা, ছয় মাসের জন্য ২৭,৬২৫ টাকা এবং বারো মাসের জন্য ৩০,৫০০ টাকা নির্ধারিত। মাল্টিপল ভিসার ক্ষেত্রে তিন মাসের ফি ৪১,০০০ টাকা, ছয় মাসের জন্য ৪৩,৮৭৫ টাকা এবং বারো মাসের জন্য ৪৬,৭৫০ টাকা ধার্য। তাছাড়া ডাবল ট্রানজিট ভিসার ফি তিন মাসের জন্য ৩২,২৫০ টাকা।
অতিরিক্ত সেবার জন্য প্রিমিয়াম লাউঞ্জ ফি ৮,০০০ টাকা, ফ্লাইট রিজার্ভেশন ফি ২৫০ টাকা, হোটেল রিজার্ভেশন ফি ২৫০ টাকা, বায়োমেট্রিক ফটো ফি ২০০ টাকা, এসএমএস চার্জ ৪০ টাকা এবং ফটোকপি ও প্রিন্টআউট ফি প্রতি পিসে ১০ টাকা নির্ধারিত। এই ফি গুলো আবেদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রকাশ করা হয়েছে।
ভিসা কেন্দ্রের ঠিকানা হাউস নং ৭৭, ব্লক এম, রোড ১১, বনানী, ঢাকা। এই অবস্থানটি শহরের প্রধান ব্যবসায়িক ও পারিবহন কেন্দ্রের নিকটে, যা আবেদনকারীদের জন্য সহজে পৌঁছানোর সুবিধা দেবে।
তুর্কি দূতাবাসের বিবৃতি অনুযায়ী, নতুন কেন্দ্রের উদ্বোধন দু’দেশের পর্যটন ও ব্যবসায়িক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। একজন কূটনীতিকের মতে, “এই সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের তুরস্কে ভ্রমণ সহজ হবে এবং দু’দেশের বাণিজ্যিক বিনিময় বাড়বে।” তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশি বাণিজ্যিক চুক্তি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা চলমান, এবং এই ধরণের সেবা অবকাঠামো তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আঞ্চলিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, তুরস্কের দক্ষিণ এশিয়ার দিকে কূটনৈতিক আগ্রহ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাড়ছে। তুরস্কের অর্থনৈতিক মন্ত্রণালয় পূর্বে জানিয়েছে যে, তুরস্কের দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন ভিসা সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি তুরস্কের আন্তর্জাতিক পর্যটন নীতি ও বাণিজ্যিক কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচিত।
বাংলাদেশে তুরস্কের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার সহজীকরণে এই কেন্দ্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পূর্বে আবেদনকারীরা তুরস্কের দূতাবাস বা বিদেশে অবস্থিত ভিসা সেন্টারে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতেন। এখন স্থানীয়ভাবে সেবা পাওয়া যাবে, যা সময় ও খরচ উভয়ই কমাবে।
দূতাবাসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার সময় সাধারণত পাঁচ থেকে দশ কর্মদিবসের মধ্যে সম্পন্ন হয়। তবে আবেদনকারীর ডকুমেন্টের সম্পূর্ণতা ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচি অনুসারে এই সময়সীমা পরিবর্তিত হতে পারে।
ভিসা কেন্দ্রের উদ্বোধন তুরস্কের ঢাকা মিশনকে কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় করার একটি নতুন দিক নির্দেশ করে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পূর্বে উল্লেখ করেছে যে, দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পর্যটন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে ভিসা সেবা সহজীকরণ একটি মূল উপাদান।
সারসংক্ষেপে, মসাইক ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার ঢাকায় কার্যক্রম শুরু করার মাধ্যমে তুরস্ক-বাংলাদেশ ভ্রমণ সহজ হবে, ফি ও সেবা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রদান করা হয়েছে, এবং দু’দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



