মেলানিয়া ট্রাম্পের জীবনীমূলক ডকুমেন্টারি এই সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেমা হলগুলোতে তৃতীয় স্থান দখল করে, প্রায় ১,৭৭৮টি থিয়েটারে মোট $৭ মিলিয়ন টিকিট বিক্রি হয়েছে। এই ফলাফল একটি দশকের মধ্যে অ-কাল্পনিক চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ আয় হিসেবে রেকর্ড হয়।
ডকুমেন্টারির পরিচালনা করেন ব্রেট রাটনার, যিনি যৌন হয়রানির অভিযোগের পর দীর্ঘ সময়ের পর পুনরায় চলচ্চিত্র পরিচালনা করছেন। চলচ্চিত্রটি মেলানিয়া ট্রাম্পের ক্যারিয়ার ও স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ার প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে তৈরি।
বক্স অফিসের প্রথম দিনেই ছবিটি তৃতীয় স্থানে বসে, তবে পূর্বাভাসিত $৮ মিলিয়ন আয়ের চেয়ে সামান্য কমে। তবে সপ্তাহান্তের পূর্বাভাসে $৫ মিলিয়ন আয় প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তাই প্রকৃত আয় তা অতিক্রম করেছে।
প্রারম্ভিক মিডিয়া বিশ্লেষণে মেলানিয়ার ডকুমেন্টারিকে $১ মিলিয়ন আয়ই হবে বলে অনুমান করা হয়েছিল। টিকিট বিক্রির ধীর গতি দেখে সিনেমা হলের মালিকরা আয়ের পূর্বাভাস $২ থেকে $৪ মিলিয়ন পর্যন্ত নামিয়ে দেয়।
এই নেতিবাচক পূর্বাভাসের পরেও রক্ষণশীল গোষ্ঠীর সমর্থন ও সামাজিক মিডিয়ায় চালু করা গ্রাসরুটস প্রচারণা টিকিট বিক্রিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি, উচ্চমানের বিজ্ঞাপন ক্যাম্পেইনও দর্শকের আগ্রহ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
ডকুমেন্টারির বিশ্বব্যাপী মুক্তির অধিকার আমাজন এমজি স্টুডিওস $৪০ মিলিয়ন মূল্যে অর্জন করেছে। থিয়েটার ও আমাজনের স্ট্রিমিং সেবা প্রাইম ভিডিও উভয়েই চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হবে।
বিপণন ব্যয়ের ক্ষেত্রে আমাজন অতিরিক্ত $৩৫ মিলিয়ন খরচ করেছে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে $২০ মিলিয়ন ব্যয় করা হয়েছে। এই বৃহৎ বিনিয়োগ ডকুমেন্টারিটিকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ব্যয়বহুল অ-কাল্পনিক চলচ্চিত্রের শিরোপা এনে দিয়েছে।
একই সময়ে ডিজনি গ্রুপের ২০তম সেঞ্চুরি স্টুডিওসের ‘Send Help’ শিরোনামের ছবি বক্স অফিসে শীর্ষে উঠে। সাম রেইমি পরিচালিত এই থ্রিলারটি প্রথম সপ্তাহে $২০ মিলিয়ন আয় করে, যা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি।
‘Send Help’ এর মোট আন্তর্জাতিক আয় $৮.১ মিলিয়ন, এবং ছবির উৎপাদন ব্যয় মার্কিন ডলারে $৪০ মিলিয়ন, যা মার্কেটিং ব্যয় বাদে। প্রাথমিকভাবে $১৪ মিলিয়ন আয় আশা করা হলেও, বাস্তবে তা দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
ফিল্মটি র্যাচেল ম্যাকডামস ও ডিলান ওব্রায়েনকে প্রধান ভূমিকায় রেখে, দুজন সহকর্মীর বেঁচে থাকার সংগ্রামকে হাস্যরস ও হরর মিশ্রণে উপস্থাপন করে। গল্পটি এক নির্জন দ্বীপে আটকে থাকা দুই কর্মীর কল্পনাপ্রসূত পরিস্থিতি নিয়ে গড়ে।
বক্স অফিসের সামগ্রিক চিত্রে দেখা যায়, বড় স্টুডিওগুলোর সিনেমা হলে আধিপত্য বজায় রয়েছে, যদিও ডকুমেন্টারির মতো অ-কাল্পনিক শিরোনামগুলোও উল্লেখযোগ্য আয় অর্জন করছে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, উচ্চ মূল্যের অধিগ্রহণ ও ব্যাপক বিপণন কৌশল ডকুমেন্টারির সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ প্রকল্পের জন্য মডেল হতে পারে।
সিনেমা দর্শকরা এই সপ্তাহান্তে বিভিন্ন ধরণের বিষয়বস্তু উপভোগ করার সুযোগ পেয়েছেন, যেখানে রাজনৈতিক ডকুমেন্টারি ও হরর-কমেডি দুটোই বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়েছে।
বিনোদন শিল্পের এই গতিবিধি নির্দেশ করে যে, সঠিক লক্ষ্যভিত্তিক প্রচারণা ও পর্যাপ্ত আর্থিক সমর্থন থাকলে অ-প্রচলিত শৈলীর চলচ্চিত্রও বক্স অফিসে দৃঢ় অবস্থান তৈরি করতে পারে।



