কক্সবাজার-১ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চকরিয়া উপজেলার পশ্চিম বড় ভেওলা, মানিকপাড়া এলাকায় অনুষ্ঠিত স্থানীয় ইউনিয়ন নির্বাচনী র্যালিতে স্বাধীনতার প্রতি অবহেলা ও ধর্মীয় বিভাজন নিয়ে তীব্র মন্তব্য করেন।
সালাহউদ্দিনের মতে, দেশের স্বাধীনতা স্বীকৃতি না দেওয়া ব্যক্তিরাই এখন ধর্মীয় ভিত্তিতে সমাজকে ভাগ করতে ব্যস্ত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর জনগণের জন্য কোনো বাস্তব পরিকল্পনা নেই; তারা ধর্মীয় রঙে ভোটারকে আলাদা করতে চায়, যদিও জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করে।
বক্তা ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্বাধীনতার সুরক্ষা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের গণতন্ত্র এক সময় নিভে গিয়েছিল, তবে বিএনপি ধারাবাহিকভাবে তা পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করেছে।
সালাহউদ্দিন অতীতের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ও গণপ্রদর্শনের কথা তুলে ধরে বলেন, সেসব আন্দোলনে শত শত মানুষ শহীদ হয়েছে এবং রক্তাক্ত রাস্তায় তাদের ত্যাগের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন গড়ে তোলা হয়েছিল।
এই স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য তিনি ধানের শীষে ভোটের দাবি করেন, দাবি করেন যে তার নেতৃত্বে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যেখানে গণতন্ত্রের আদর্শ পূর্ণ হবে।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি বলেন, লক্ষ্য হল শিক্ষিত বেকারত্বের সৃষ্টি না করে কর্মক্ষম জনশক্তি গড়ে তোলা। তিনি ১৮ কোটি মানুষের সম্ভাবনাকে দ্বিগুণ করে ৩৬ কোটি কর্মশক্তি হিসেবে রূপান্তর করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন।
পরিবেশ সংরক্ষণে তিনি বৃক্ষরোপণ, খাল খনন এবং প্লাস্টিক দূষণ কমানোর উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বিএনপির হাতে ইতিমধ্যে বহু প্রকল্প রয়েছে, তিনি তা নিশ্চিত করেন।
সালাহউদ্দিন অতীতের অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলাকে শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব বিএনপির ওপর আরোপ করেন এবং ভোটারদের ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির উচ্চপদস্থ নেতারা, যার মধ্যে রয়েছে মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা সভাপতি জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হেফাজতুর রহমান টিপু মিয়া এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শোয়াইবুল ইসলাম সবুজ।
এই র্যালি, যা স্থানীয় স্তরে অনুষ্ঠিত হলেও, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে; তাই দলীয় কর্মী ও সমর্থকরা ভবিষ্যৎ ভোটাভাটির জন্য ভিত্তি গড়তে একত্রিত হয়েছেন।
সালাহউদ্দিনের বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতার মূল্যবোধকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং ধর্মীয় বিভাজনের পরিবর্তে জাতীয় ঐক্যকে শক্তিশালী করা, যা তিনি বিশ্বাস করেন যে বিএনপি সরকারের নীতি ও কর্মসূচির মাধ্যমে সম্ভব হবে।



