জাতীয় নাগরিক দল (JNP) নির্বাচনী প্রচারের সময় একাধিক দলকে লক্ষ্য করে অভিযোগপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামি সমন্বিত জোটের কিছু সদস্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে JNP-এর কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সচিব আয়মান রাহাত ইসিকে (ইসিতে) ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সকাল ১০টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে রাহাত অভিযোগের বিশদ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কিছু দল পূর্ব পরিকল্পনা করে নির্দিষ্ট কয়েকটি দলের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা নির্বাচনের ন্যায়সঙ্গততা ও সমতা প্রশ্নবিদ্ধ করে। রাহাতের মতে, শেরপুরে জামায়াত-এ-ইসলামির একজন নেতা নিহত হয়েছেন, যা তিনি বিএনপি কর্মীদের হামলার ফলাফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
রাহাত উল্লেখ করেন, ওই হামলার সন্দেহভাজনদের আগাম জামিন প্রদান করা হয়েছে এবং ইউএনও ও ওএসকে (অপরাধী) বদল করা হয়েছে, ফলে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, এ ধরনের অব্যাহত হিংসা দলগুলোর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় এবং ভবিষ্যতে আরও আক্রমণকে উৎসাহিত করে। একই সময়ে, তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটিত হিংসা ঘটনা ইসিকে (ইসিতে) অবহিত করা হয়েছে, তবে তার নিয়ন্ত্রণে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
রাহাতের মতে, যদি এই অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে দলটি স্বেচ্ছায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে সরে যাবে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সারাদেশে পর্যবেক্ষিত হামলার প্যাটার্ন স্পষ্ট, যেখানে একটি নির্দিষ্ট দল একাধিক দলকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালাচ্ছে। এই প্যাটার্ন স্পষ্ট হলে সরকার ও ইসিকে (ইসিতে) দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামি পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে রাহাতের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, বিএনপির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী জনসভায় প্রকাশ্যে বলেছেন যে, তাদের দলকে লক্ষ্য করে হিংসা চালানো হচ্ছে। রাহাত এই মন্তব্যকে প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরে, যে নির্বাচনী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।
জাতীয় নাগরিক দল (JNP) এর এই অভিযোগের পর, নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে রাহাতের দাবি অনুযায়ী, ইসিকে (ইসিতে) দ্রুত হস্তক্ষেপ করে হিংসা বন্ধ করা এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যদি ইসিকে (ইসিতে) যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়, তবে নির্বাচনী পরিবেশে অবিচলিত অশান্তি এবং দলীয় বিরোধের তীব্রতা বাড়তে পারে।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে, দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, যে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে এই ধরনের হিংসা ও অভিযোগের সংখ্যা বাড়তে পারে। তারা উল্লেখ করেন, নির্বাচনী সময়ে সকল দলকে সমান সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে ভোটারদের অংশগ্রহণে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।
জাতীয় নাগরিক দল (JNP) এর রাহাতের বক্তব্যের ভিত্তিতে, ইসিকে (ইসিতে) এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশ করেনি। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ইসিকে (ইসিতে) সকল অভিযোগের যথাযথ তদন্তের দায়িত্ব রয়েছে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
সংক্ষেপে, জাতীয় নাগরিক দল (JNP) নির্বাচন কমিশনে একাধিক দলকে লক্ষ্য করে হিংসা ও অনিয়মের অভিযোগ দায়ের করেছে, এবং ইসিকে (ইসিতে) দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এই বিষয়টি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে রাজনৈতিক পরিবেশের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



