বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিএআরসি) আজ (২ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৬ টা থেকে ১২ কেজি লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের নতুন বিক্রয়মূল্য ১,৩৫৬ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত জানায়। পূর্বের দাম ১,৩০৬ টাকা ছিল। এই মূল্যসংশোধন সকল লাইসেন্সধারী এলপিজি বিক্রেতা ও বিতরণকারীর জন্য বাধ্যতামূলক। এটি দেশের গ্যাস বাজারে সাম্প্রতিক মাসের প্রথম মূল্যবৃদ্ধি।
বিএআরসির ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫০ টাকায় বাড়িয়ে ১,৩৫৬ টাকা করা হয়েছে। পূর্বে ১,৩০৬ টাকা ধার্য ছিল, যা গত মাসের শেষের তুলনায় প্রায় ৩.৮ শতাংশ বৃদ্ধি। এই পরিবর্তন গ্রাহকদের জন্য মাসিক গ্যাস ব্যয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
মূল্য সমন্বয়ের পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারের গতিবিধি উল্লেখ করা হয়েছে। বেসিক রেটটি সাউদি আরামকোর মাসিক চুক্তি মূল্যের সঙ্গে যুক্ত, যা প্রতি মাসের শুরুর দিকে গ্লোবাল এলপিজি দামের সূচক নির্ধারণ করে। তাই দেশীয় দাম আন্তর্জাতিক চুক্তি মূল্যের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ফেব্রুয়ারি মাসে অটো গ্যাসের লিটারে দাম ৬২.১৪ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। এটি জানুয়ারি মাসের ৫৯.৮০ টাকার তুলনায় এবং ডিসেম্বরের ৫৭.৩২ টাকার তুলনায় যথাক্রমে ৪.১ এবং ৮.৫ শতাংশ বৃদ্ধি। গ্যাস চালিত গাড়ি ও গৃহস্থালির ব্যবহারকারী এই পরিবর্তন লক্ষ্য করবে।
বেসরকারি খুচরা বিক্রেতাদের জন্য বিভিন্ন সিলিন্ডারের নতুন দাম নিম্নরূপ: ১২.৫ কেজি সিলিন্ডার ১,৪১৩ টাকা, ১৫ কেজি ১,৬৯৬ টাকা, ১৬ কেজি ১,৮০৯ টাকা, ১৮ কেজি ২,০৩৫ টাকা, ২০ কেজি ২,২৬০ টাকা, ২২ কেজি ২,৪৮৭ টাকা, ২৫ কেজি ২,৮২৬ টাকা, ৩০ কেজি ৩,৩৯১ টাকা, ৩৩ কেজি ৩,৭৩১ টাকা, ৩৫ কেজি ৩,৯৫৬ টাকা এবং ৪৫ কেজি ৫,০৮৭ টাকা। এই তালিকা গৃহস্থালি ও ব্যবসায়িক গ্রাহকদের জন্য প্রযোজ্য।
বিএআরসি রিটিকুলেটেড পর্যায়ে কিলোগ্রাম ভিত্তিক গ্যাসের দাম ১০৯.২৯ টাকা (ভ্যাটসহ) নির্ধারণ করেছে। এটি জানুয়ারি মাসের ১০৫.০৮ টাকা এবং ডিসেম্বরের ১০০.৬৬ টাকার তুলনায় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। রিটিকুলেটেড নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সরবরাহিত গ্যাসের এই মূল্য বৃদ্ধি সরাসরি শেষ ব্যবহারকারীর বিলকে প্রভাবিত করবে।
বেসরকারি গ্যাস সিস্টেমে সরবরাহিত গ্যাসের প্রতি ঘনমিটারে দাম ২৪২.৮০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে, যা জানুয়ারি মাসের ২৩৩.৫০ টাকা এবং ডিসেম্বরের ২২৩.৮০ টাকার তুলনায় যথাক্রমে ৪.১ এবং ৮.৫ শতাংশ বৃদ্ধি। এই পরিবর্তন শিল্পখাত ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্যাস ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলবে।
এলপিজি দামের এই সামগ্রিক বৃদ্ধি গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থাগুলোর আয় বাড়াবে, তবে একই সঙ্গে গ্রাহকদের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। বিশেষ করে গৃহস্থালি ব্যবহারকারী ও ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে খরচের চাপ বাড়তে পারে, যা বিক্রয় পরিমাণে সাময়িক হ্রাসের সম্ভাবনা তৈরি করে।
বাড়িতে রান্না, গরম পানি এবং গ্যাস চালিত গাড়ির ব্যবহারকারী এখন প্রতি মাসে অতিরিক্ত খরচের মুখোমুখি হবে। গ্যাসের দাম বাড়ার ফলে কিছু পরিবার বিকল্প জ্বালানি, যেমন কাঠ বা বৈদ্যুতিক গরম করার যন্ত্রে রূপান্তর বিবেচনা করতে পারে, যা বাজারের চাহিদা কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে পারে।
গ্যাসের দাম সরাসরি খাবার প্রস্তুতি ও গৃহস্থালি ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত, তাই এই বৃদ্ধি সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতিতে অবদান রাখবে বলে বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন। বিশেষ করে শীতকালে গ্যাসের চাহিদা বাড়ে, ফলে মূল্যবৃদ্ধি ঋতুজনিতভাবে তীব্র হতে পারে।
বিএআরসি উল্লেখ করেছে, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক গ্যাস চুক্তির পরিবর্তন অনুসারে দাম পুনরায় সমন্বয় করা হতে পারে। তাই বাজার অংশগ্রহণকারীদের জন্য নিয়মিত আপডেট অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। গ্যাস সরবরাহের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, ২ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া নতুন এলপিজি মূল্য গৃহস্থালি ও শিল্পখাতে ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে, তবে সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। গ্রাহকদের জন্য পরিকল্পিত ব্যবহার ও বিকল্প জ্বালানির সন্ধান করা আর্থিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।



