রংপুরের জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকায় সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের একটি জনসংযোগ সম্মেলন পরিচালনা করেন। তিনি উপস্থিত সাংবাদিক ও সমাবেশকে জানিয়ে দেন যে, অতীতেও এবং ভবিষ্যতেও কেউ জাতীয় পার্টির কবর রচনা করতে পারবে না। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি দলের প্রতি আস্থা ও অটলতা পুনর্ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনটি রংপুরের স্থানীয় ভক্তদের সমর্থনে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কাদের উল্লেখ করেন যে রংপুরের মানুষ জাতীয় পার্টিকে যেভাবে ধরে রেখেছে, তেমনি ভবিষ্যতেও ধরে রাখবে। তিনি রংপুরের ঐতিহাসিক সমর্থনকে দলের শক্তির মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন।
কাদের আরও জানান যে, জাতীয় পার্টিকে দুর্বল করার জন্য অতীতে নানা ষড়যন্ত্রের প্রচেষ্টা করা হয়েছে, তবে সেসব প্রচেষ্টা কোনো ফল দিতে পারেনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ভবিষ্যতেও পার্টিকে বাদ দিয়ে কোনো রাজনৈতিক সাফল্য অর্জন করা অসম্ভব।
দলটির সংগঠন ও উত্সাহের ক্ষেত্রে কাদের আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে জাতীয় পার্টি পূর্বের তুলনায় আরও উজ্জীবিত ও সুসংগঠিত অবস্থায় রয়েছে। এই উন্নয়নকে তিনি দলের পুনর্জাগরণ হিসেবে বর্ণনা করেন।
নির্বাচন সংক্রান্ত আলোচনায় কাদের জানান যে, লাঙ্গল নির্বাচনী এলাকায় জাতীয় পার্টির ভোটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি এই উন্নতিগুলোকে পার্টির মজবুত ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জাতীয় পার্টি জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন।
কাদেরের মন্তব্যের পরপরই, রংপুরের অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। যদিও কিছু বিরোধী দল সাধারণত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা দাবি করে, তবে তারা জাতীয় পার্টির এই নির্দিষ্ট বক্তব্যে সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেননি।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, জাতীয় পার্টির নেতৃত্বের এই দৃঢ় অবস্থান এবং রংপুরে বাড়তি ভোটশেয়ার দলকে নির্বাচনী কৌশলে আত্মবিশ্বাস প্রদান করতে পারে। কাদেরের উক্তি পার্টির কর্মীদের মধ্যে মনোবল বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং নির্বাচনী প্রচারণার সময় সমর্থকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, নির্বাচনী কমিশনের নিকটবর্তী সময়ে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন পর্যবেক্ষক গোষ্ঠীর তদারকি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। যদি নির্বাচন সত্যিই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হয়, তবে কাদেরের পূর্বাভাস অনুযায়ী জাতীয় পার্টি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, জিএম কাদেরের রংপুরে প্রকাশিত বক্তব্য জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নির্বাচনী প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ করে। পার্টি তার ঐতিহাসিক সমর্থন ভিত্তি বজায় রেখে, সংগঠনগত শক্তি বৃদ্ধি করে এবং ভোটারদের মধ্যে পুনরায় আস্থা জাগিয়ে তুলতে চায়। আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল কীভাবে গড়ে উঠবে, তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করবে।



