সোমবার সকালবেলা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়। অনুষ্ঠানে খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার উপস্থিত থেকে দেশীয় ও আমদানি করা সব ধরনের খাবার—মাছ, মাংস, দুধ, ডিমসহ—নিরাপদ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি, যা দেশের স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলবে।
এই বছরের নিরাপদ খাদ্য দিবসের থিম “নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করি, সুস্থ সবল জীবন গড়ি” হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। থিমের মাধ্যমে নিরাপদ খাবারকে স্বাস্থ্যকর ও শক্তিশালী সমাজ গঠনের মূল স্তম্ভ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
আলী ইমাম মজুমদার জানান, প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আমদানি করা উভয়ই অপরিহার্য, তবে আমদানিকৃত পণ্যের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। তাই উভয় ক্ষেত্রেই কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, বর্তমানে খেজুরের রসের ব্যবহার বাড়ার ফলে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। পূর্বে বাদুড়ের কারণে ভাইরাসের বিস্তার কম দেখা গিয়েছিল, তবে এখন রসের প্রক্রিয়াকরণ ও ভোগের পদ্ধতি পরিবর্তনের ফলে নতুন ঝুঁকি উদ্ভূত হয়েছে।
উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, এই পরিবর্তনের পেছনের কারণগুলো বিশ্লেষণ করা এবং প্রয়োজনীয় গবেষণা চালিয়ে ঝুঁকি হ্রাসের উপায় খুঁজে বের করা দরকার। রোগবালাইয়ের সম্ভাব্য উৎস ও পরিবহন চেইন নির্ণয় করে সময়মতো প্রতিক্রিয়া জানানো সম্ভব হবে।
মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে পাঙ্গাসের চাষে হরমোন বা অনিরাপদ পদ্ধতির ব্যবহার আছে কিনা তা তদন্তের আহ্বান জানান। হরমোনের অতিরিক্ত ব্যবহার মানব স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে, তাই নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
আলীর মতে, খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে, তবে তা মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি না করে। তাই গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত ল্যাবরেটরি পরীক্ষা, সার্টিফিকেশন এবং স্বচ্ছ লেবেলিং প্রয়োজন।
প্রথম সেশনের প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্য সচিব মো. ফিরোজ সরকার, যিনি সভার সূচনা করেন। কৃষি সচিব ড. এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয়িক সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বিএফএসইএর চেয়ারম্যান জাকারিয়া স্বাগত বক্তব্য দিয়ে সভার সূচনা করেন। এরপর বিএফএসইএর সদস্য ড. মোহাম্মদ মোস্তফা খাবারের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল উপস্থাপন করেন, যেখানে বিভিন্ন পণ্যের মাইক্রোবায়োলজিক্যাল ও রাসায়নিক বিশ্লেষণ দেখানো হয়।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল হাসান সিকদার মূল গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন, যেখানে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তাবিত নীতি ও কৌশল বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। তার বিশ্লেষণ স্থানীয় উৎপাদন ও আমদানি উভয়ের জন্য প্রযোজ্য।
দ্বিতীয় সেশনে মুক্ত আলোচনা পরিচালনা করেন বিএফএসইএর চেয়ারম্যান। প্যানেল আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সংগীতা আহমেদ এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম অংশ নেন। তারা রোগবালাইয়ের সম্ভাব্য উৎস ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
কৃষি সচিব ড. এমদাদ উল্লাহ মিয়ান উল্লেখ করেন, কৃষি, খাদ্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় একসাথে কাজ করে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহের জন্য নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে। তিনি কৃষি উন্নয়নের প্রাথমিক পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা জানিয়ে দেন।
মিয়ান আরও বলেন, নিয়মিত নজরদারি, প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি, যাতে নতুন রোগবালাইয়ের ঝুঁকি দ্রুত সনাক্ত ও মোকাবিলা করা যায়। তিনি সকল উৎপাদক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও ভোক্তাকে নিরাপদ খাদ্য চর্চা গ্রহণে আহ্বান জানান।
সমাপনী বক্তব্যে আলী ইমাম মজুমদার জোর দিয়ে বলেন, নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা কেবল সরকারী দায়িত্ব নয়, সমাজ



