26 C
Dhaka
Monday, February 2, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিটিআইবের ইফতেখারুজ্জামান: মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ না হলে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে প্রভাব পড়বে

টিআইবের ইফতেখারুজ্জামান: মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ না হলে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে প্রভাব পড়বে

ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় টিআইবের সদর দফতরে সোমবার দুপুরে একটি গবেষণা ফলাফল উপস্থাপনের পর, নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মবের কার্যকলাপ দমন করা অপরিহার্য।

অনুষ্ঠানে ‘কর্তৃত্ববাদ পতন‑পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। মবের হিংসা যদি যথাযথভাবে রোধ না করা হয়, তবে তা ভোটারদের অংশগ্রহণ, প্রার্থী নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে তিনি বলেন।

ড. ইফতেখারুজ্জামান সরকারের প্রতি দায়িত্ব আরোপ করে বলেন, মব সহিংসতা প্রতিরোধে সরকার শুরুর দিক থেকেই যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মবের উত্স প্রথমে সরকারি প্রশাসনিক কেন্দ্রে, বিশেষ করে সচিবালয়ে দেখা গিয়েছিল।

মবের উৎপত্তি সম্পর্কে তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সরকারী সংস্থার ভিতরে গড়ে ওঠা এই হিংসা পরবর্তীতে বাহ্যিক শক্তি দ্বারা ব্যবহার করা হয়েছে। সচিবালয়ের মবের সৃষ্টি হওয়ার পরই এই বাহ্যিক গোষ্ঠীগুলি ক্ষমতা অর্জন করে, যা সরকারের নৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করেছে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো হত্যাকাণ্ড না ঘটার আশাবাদ প্রকাশ করলেও, তিনি জোর দিয়ে বলেন যে মবের হুমকি শুধুমাত্র ভোটের দিনেই সীমাবদ্ধ নয়; নির্বাচন শেষে কয়েক দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। সরকার এই ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সক্ষমতা রাখে, এ কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের পূর্ববর্তী নির্বাচনী ইতিহাসের আলোকে তিনি অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। মব সহিংসতা রোধে পূর্বের অভিজ্ঞতা ব্যবহার না করলে, একই ধরনের অশান্তি পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।

জুলাই মাসে ঘটিত আন্দোলনের পরবর্তী জবাবদিহি প্রক্রিয়া সম্পর্কেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সেই সময়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগে কিছু সাংবাদিককে হঠাৎ মামলায় জড়িয়ে আটক রাখা হয়েছে, যা পেশাগত অবস্থানের অপব্যবহার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ ন্যায়বিচার নাকি প্রতিশোধ, তা স্পষ্ট হওয়া দরকার। যদি বিচারিক প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ না হয়, তবে প্রকৃত অপরাধী—যারা কর্তৃত্ববাদী নীতি অনুসরণ করে—সনাক্ত করে জবাবদিহির আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়বে।

অবশেষে তিনি উল্লেখ করেন, সত্যিকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হলে শুধু হত্যাকাণ্ড নয়, মানবাধিকার লঙ্ঘন, দুর্নীতি, অর্থ পাচার এবং কর ফাঁকির মতো অপরাধগুলিকেও সমন্বিতভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। এসব বিষয়ের সমাধানই দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান শেষ কথা বলেন, মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে সরকারী উদ্যোগের ত্বরান্বিত বাস্তবায়ন না হলে, নির্বাচনের ফলাফল এবং দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গুরুতর প্রভাব পড়বে। তিনি সকল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দ্রুত এবং দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments