24 C
Dhaka
Monday, May 4, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনরটারড্যাম চলচ্চিত্র উৎসবে জিম্পা চলচ্চিত্রের ডাচ প্রিমিয়ার, জোয়ান লিথগো ও অলিভিয়া কলম্যানের...

রটারড্যাম চলচ্চিত্র উৎসবে জিম্পা চলচ্চিত্রের ডাচ প্রিমিয়ার, জোয়ান লিথগো ও অলিভিয়া কলম্যানের অভিনয় প্রশংসা

ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যাম (IFFR) এর ৫৫তম সংস্করণে রবিবার জিম্পা নামের নতুন ফিচার চলচ্চিত্রের ডাচ প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। জোয়ান লিথগো, অলিভিয়া কলম্যান এবং অড মেসন-হাইড প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। চলচ্চিত্রটি কুইয়ার পরিচয়, পিতামাতার সম্পর্ক এবং প্রজন্মের মধ্যে অসম্পূর্ণ বন্ধনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে, এবং দর্শকদের সহনশীলতা ও সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্য রাখে।

সৌফি হাইড পরিচালিত এই কাজটি তার নিজের পিতার জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত। হাইডের পিতা গে কর্মী ছিলেন, হাইডের মা ও পিতার বিচ্ছেদ এবং এডামের গে জীবনের অনুসরণ তার সন্তানদের সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতা তুলে ধরেছে। লিথগো অভিনীত জিম, যাকে নিজে “জিম্পা” বলে ডাকে, তা তার দাদার শব্দ থেকে দূরে সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে।

চলচ্চিত্রের কাহিনী জিমের কন্যা হ্যানাহ (অলিভিয়া কলম্যান) এবং তার নন-বাইনারি কিশোর সন্তান ফ্রান্সেস (অড মেসন-হাইড) ও স্বামী ড্যানিয়েল হেনশাল (ড্যানিয়েল হেনশাল) জিম্পার বাড়িতে আসার মাধ্যমে এগোয়। পরিবারটি জিমের সঙ্গে পুনর্মিলন করার পাশাপাশি, ফ্রান্সেসকে আমস্টারডামের কুইয়ার সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।

জিম্পা চরিত্রটি হাইডের গে কর্মী পিতার স্মৃতি থেকে গড়ে উঠেছে, যিনি পরিবার ত্যাগ করে আমস্টারডামে স্বাধীন গে জীবন যাপন করতে গিয়েছিলেন। এই পটভূমি চলচ্চিত্রে জিমের আত্মপরিচয় ও তার পরিবারের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতার মূল কারণ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। জিমের এই নামকরণ তার বয়সের সঙ্গে মানিয়ে নিতে চাওয়া এবং পুরনো পারিবারিক লেবেল থেকে মুক্তি পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে।

হ্যানাহের সঙ্গে ফ্রান্সেসের সম্পর্ক জটিল, তবে জিম্পা তাদের দুজনকে একসাথে সময় কাটাতে উৎসাহিত করেন। ফ্রান্সেস আমস্টারডামের কুইয়ার সম্প্রদায়ে প্রবেশ করে, যেখানে রোমানা ভ্রেডে, হ্যান্স কেস্টিং এবং জোই লাভ স্মিথের মতো অভিনেতারা বিভিন্ন চরিত্রে উপস্থিত। এই চরিত্রগুলো ফ্রান্সেসকে নিজের পরিচয় স্বীকার করতে এবং শহরের উন্মুক্ত পরিবেশে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে সহায়তা করে।

প্রদর্শনের পর একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যার শিরোনাম “বিগ টক: এ কুইয়ার ফ্যামিলি অ্যাফেয়ার”। ডাচ অভিনেত্রী হ্যানা ভ্যান ভ্লিটের মডারেশন নিয়ে লিথগো এবং অন্যান্য কাস্ট সদস্যরা কুইয়ার অধিকার, পরিবারিক সংযোগ এবং সামাজিক সহনশীলতা নিয়ে কথা বলেন। আলোচনায় বিশ্বব্যাপী কুইয়ার অধিকার হুমকির মুখে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

প্রযোজক মার্লিন স্লট চলচ্চিত্রের মূল থিমকে “সংযোগ” হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, জিম্পা পরিবারিক সম্পর্কের জটিলতা ও পুনর্মিলনের মাধ্যমে মানবিক বন্ধনের গুরুত্ব তুলে ধরে। হাইডের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা চলচ্চিত্রের সৃজনশীল দিককে সমৃদ্ধ করেছে; তার পিতা গে কর্মী ছিলেন, পরে এইডস রোগে আক্রান্ত হন এবং অড মাত্র বারো বছর বয়সে তার পিতার মৃত্যু দেখেন। হাইড এই অভিজ্ঞতাকে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করতে চেয়েছেন, যাতে পিতা-সন্তান সম্পর্কের অমীমাংসিত প্রশ্নগুলো আলোচনার বিষয় হয়।

লিথগো চলচ্চিত্রের সামাজিক প্রভাবের ওপর জোর দিয়ে বলেন যে, কুইয়ার পরিবারিক গল্পগুলো দর্শকদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করতে পারে। তিনি জে.কে. রোলিংয়ের ট্রান্সজেন্ডার বিরোধী মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় নিজেকে সমালোচনার মুখে দেখতে পান, বিশেষ করে হ্যারি পটার সিরিজের ডাম্বলডোর চরিত্রে তার অভিনয় নিয়ে। তবু তিনি জিম্পা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে কুইয়ার পরিচয়ের স্বীকৃতি ও সহনশীলতা বাড়াতে চান।

চলচ্চিত্রের সঙ্গীত, দৃশ্যাবলি এবং আমস্টারডামের রঙিন রাস্তাগুলোকে কুইয়ার সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। জিম্পা চরিত্রের আত্মবিশ্লেষণ ও ফ্রান্সেসের আত্ম-অন্বেষণ একসাথে চলচ্চিত্রের মূল বার্তা গঠন করে—যে পরিবারিক বন্ধন, যদিও কখনো কখনো ভাঙা বা জটিল, তবু পুনর্গঠন ও সমঝোতার মাধ্যমে নতুন রূপ নিতে পারে।

রটারড্যাম ফেস্টিভ্যালের এই প্রিমিয়ারটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র প্রেমিকদের পাশাপাশি কুইয়ার কমিউনিটিকেও আকৃষ্ট করেছে। দর্শকরা চলচ্চিত্রের সূক্ষ্ম হাস্যরস, হৃদয়স্পর্শী মুহূর্ত এবং সামাজিক বার্তাকে প্রশংসা করেছেন। চলচ্চিত্রটি ভবিষ্যতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রদর্শিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা কুইয়ার পরিবারিক গল্পকে বিশ্বব্যাপী আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে।

সারসংক্ষেপে, জিম্পা চলচ্চিত্রটি কুইয়ার পরিচয়, পারিবারিক সম্পর্ক এবং সামাজিক সহনশীলতার সংমিশ্রণে গড়ে উঠেছে। লিথগো, কলম্যান এবং মেসন-হাইডের পারফরম্যান্স দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার পাশাপাশি, কুইয়ার সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি ও সমর্থনের জন্য নতুন আলো জ্বালিয়ে দিয়েছে। এই কাজটি কেবল বিনোদন নয়, বরং সামাজিক পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Hollywood Reporter – Movies
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments