উত্তরপ্রদেশের বারেলি শহরে ৩৩ বছর বয়সী জিতেন্দ্র কুমার যাদবের দেহ ইজ্জতনগর এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও, ময়নাতদন্তে গলা চেপে হত্যা নিশ্চিত হয়েছে।
পুলিশের অনুসন্ধানে জানা যায়, জিতেন্দ্রের স্ত্রী জ্যোতি এবং তার বাবা কালিচরণ, মা চামেলি ও ভাই দীপক এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন। দেহকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা দেখানোর পরিকল্পনা করা হয় এবং প্রতিবেশীদের জানানো হয় যে স্বামী আত্মহত্যা করেছেন।
বিবাহের আগে দুজনের সম্পর্ক নয় বছর ধরে চলছিল; ছাত্রজীবন থেকেই পরিচিতি ছিল। তবে গত বছরের নভেম্বর মাসে দম্পতি শেষ পর্যন্ত বিয়ে করেন। বিয়ের পরই আর্থিক বিষয়কে কেন্দ্র করে বিবাদ তীব্র হয়ে ওঠে। জ্যোতি অভিযোগ করেন যে স্বামী তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ২০,০০০ টাকা তুলে অনলাইন জুয়ায় হেরেছেন।
এই আর্থিক বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল এবং ২৬ জানুয়ারি একটি তীব্র কথোপকথনের পর শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। জ্যোতি তখন তার বাবা-মা ও ভাইকে বাড়িতে ডেকে আনে। স্বামী-স্ত্রীর তর্কের মাঝখানে তারা জিতেন্দ্রকে আটকায় এবং জ্যোতি শ্বাসরোধের মাধ্যমে তাকে হত্যা করে।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তবে জিতেন্দ্রের ভাই অজয় কুমার মামলাটি পুনরায় তদন্তের দাবি করেন। ময়নাতদন্তের ফলাফল হিংসাত্মক মৃত্যুর প্রমাণ দেখায়, ফলে আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগ থেকে হত্যার অভিযোগে পরিবর্তন করা হয়।
পুলিশ জ্যোতির কাছ থেকে স্বীকারোক্তি পায় যে তিনি এবং তার পরিবার স্বামীকে আটকিয়ে শ্বাসরোধের মাধ্যমে হত্যা করেছে। জ্যোতি জানান, স্বামীর সঙ্গে তার পরিচয় শিক্ষাজীবন থেকেই, তবে বিবাহের পর আর্থিক ও পারিবারিক সমস্যার কারণে সম্পর্ক ভেঙে যায়।
হত্যার সঙ্গে জড়িত তিনজন—জ্যোতি, তার বাবা কালিচরণ এবং মা চামেলি—কে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভাই দীপকও গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে জ্যোতির আরেক ভাই পলাতক অবস্থায় রয়েছে; তাকে গ্রেপ্তার করার প্রচেষ্টা চলছে।
অধিক তদন্তে জানা যায়, জ্যোতি এবং তার পরিবার স্বামীর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপন করতে দেহকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেয়। এই প্রচেষ্টা প্রতিবেশীদের কাছে জানানো হয়, ফলে প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে গণ্য করা হয়।
পুলিশের মতে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আর্থিক বিরোধের মূল কারণ ছিল জ্যোতির স্বামীর অনলাইন জুয়ায় হারের ফলে সৃষ্ট ২০,০০০ টাকার ক্ষতি। এই অর্থের জন্য দম্পতির মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী কলহ গড়ে ওঠে, যা শেষ পর্যন্ত হিংসাত্মক রূপ নেয়।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে গলা চেপে হত্যা নিশ্চিত হওয়ায়, মামলাটি আত্মহত্যা প্ররোচনার বদলে হত্যার অভিযোগে রূপান্তরিত হয়েছে। এখন তদন্তকারী কর্মকর্তারা অপরাধের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য প্রমাণ সংগ্রহ চালিয়ে যাচ্ছেন।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালতে শোনার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের জমানত নির্ধারণের পাশাপাশি পলাতক ভাইয়ের অনুসন্ধানও চলমান।
এই ঘটনার পর স্থানীয় সমাজে পারিবারিক আর্থিক বিরোধের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা পরিবারিক সমস্যার সমাধানে সময়মতো হস্তক্ষেপের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে।



