কানাডার আলবার্টা প্রদেশের প্রধানমন্ত্রীর ড্যানিয়েল স্মিথ ক্যালগারির বিএমও সেন্টারে অনুষ্ঠিত ফেডারেল কনজারভেটিভ পার্টির সম্মেলনে ১০ মিনিটের সংক্ষিপ্ত ভাষণে পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে পিয়ের পয়লিয়েভরের প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেন। একই সময়ে তিনি আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে সরাসরি আলোচনা না করে, পার্টির নীতি ও জাতীয় সংবিধানের প্রতি দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন।
আলবার্টা প্রদেশে বিচ্ছিন্নতা নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিনের বিষয়। একটি গোষ্ঠী ইতিমধ্যে মে মাসের মধ্যে প্রায় ১,৭৮,০০০ স্বাক্ষর সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে গণভোটের দাবি জানিয়েছে, যা পূরণ হলে প্রাদেশিক সরকারকে গণভোটের আহ্বান জানাতে বাধ্য করবে। তবে স্মিথের এই বক্তৃতা বিচ্ছিন্নতা প্রশ্নকে এড়িয়ে, কনজারভেটিভ পার্টির কেন্দ্রীয় নীতি ও ফেডারেল সরকারের ভূমিকা নিয়ে কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
স্মিথের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল সংবিধানিক কাঠামো এবং পার্টির অগ্রাধিকারভিত্তিক নীতি। তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি প্রদেশ তার নিজস্ব দায়িত্ব পালন করবে, আর ফেডারেল সরকার দেশের সামগ্রিক প্রয়োজন মেটাতে কাজ করবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি ফেডারেল কনজারভেটিভদের সংবিধানিক নীতির প্রতি অটল বিশ্বাসের কথা জোর দেন।
প্রধানমন্ত্রীর মতে, বর্তমান সময়ে ফেডারেল সরকারের দুটো গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি আছে: বেইল সংস্কার এবং পশ্চিম উপকূলে নতুন পাইপলাইন নির্মাণ। তিনি এই দুইটি বিষয়কে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরেন।
পাইপলাইন প্রকল্পের ব্যাপারে স্মিথের রায় স্পষ্ট। তিনি উল্লেখ করেন, কনজারভেটিভরা নতুন পাইপলাইনের পক্ষে বহু বছর আগে থেকেই অবস্থান নিয়েছেন, এমনকি ‘এলবো আপ’ আন্দোলনের সময়ও তাদের সমর্থন অব্যাহত ছিল। আন্দোলন শেষ হওয়ার পরেও পার্টি এই প্রকল্পকে সমর্থন করে চলবে, এটাই তার দৃঢ়তা।
স্মিথ আরও বলেন, নতুন পাইপলাইন শুধুমাত্র পশ্চিমে নয়, পূর্ব, উত্তর ও দক্ষিণ দিকেও প্রয়োজন। তিনি এই প্রকল্পকে একরকম ‘একঘেয়ে’ কাজ হিসেবে বর্ণনা করেন, যাতে দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হয়। তার মতে, পাইপলাইন নির্মাণে কোনো বাধা না রেখে দ্রুত কাজ করা উচিত।
সম্মেলনে উপস্থিত প্রতিনিধিদের মধ্যে স্মিথের বক্তব্যের পর উচ্ছ্বাস দেখা যায়। পিয়ের পয়লিয়েভরের নেতৃত্বে পার্টির সমর্থন হার ৮৭ শতাংশের উপরে পৌঁছানোর পর এই উচ্ছ্বাস আরও বাড়ে। অংশগ্রহণকারীরা পার্টির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন।
ক্যালগারির প্রতিনিধি মিশেল ম্যাথার বলেন, এই সম্মেলন কানাডার সঠিক পথে অগ্রসর হওয়ার আশা জাগিয়ে তুলেছে। তিনি স্মিথের ভাষণকে আলবার্টা ও কনজারভেটিভদের জন্য উপযুক্ত বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেন।
স্মিথের ভাষণে পূর্বের লিবারেল সরকার, সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং পরিবেশ মন্ত্রী স্টিফেন গিলবোকে সমালোচনা করা হয়েছে, তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে সরাসরি আক্রমণ করা হয়নি। তিনি দশ বছর ধরে পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
বিচ্ছিন্নতা সংক্রান্ত গণভোটের সম্ভাবনা নিয়ে স্মিথ কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি এই বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে পার্টির নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর বেশি জোর দেন।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, স্মিথের এই কৌশলিক দৃষ্টিভঙ্গি পার্টির অভ্যন্তরে ঐক্য বজায় রাখতে এবং আলবার্টার বিচ্ছিন্নতা আন্দোলনের তীব্রতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে বিচ্ছিন্নতা সমর্থকদের দাবি যদি স্বাক্ষর সীমা পূরণ করে, তবে গণভোটের আহ্বান অবশ্যম্ভাবী হবে, যা ফেডারেল রাজনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি করতে পারে।
পরবর্তী ধাপে, কনজারভেটিভ পার্টি পিয়ের পয়লিয়েভরের নেতৃত্বে ফেডারেল নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবে, এবং আলবার্টার অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিশেষ করে পাইপলাইন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেবে। একই সঙ্গে, বিচ্ছিন্নতা আন্দোলনের গতিপথ ও স্বাক্ষর সংগ্রহের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে সরকারী পদক্ষেপের দিক নির্ধারণ করবে।
সারসংক্ষেপে, ড্যানিয়েল স্মিথের ক্যালগারি বক্তৃতা কনজারভেটিভ পার্টির নীতি, পিয়ের পয়লিয়েভরের নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন এবং দেশের সংবিধানিক কাঠামোর প্রতি অঙ্গীকারকে তুলে ধরেছে, আর বিচ্ছিন্নতা ইস্যু থেকে দূরে সরে গিয়ে ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশল ও অর্থনৈতিক প্রকল্পের ওপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছে।



