রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) শপথ গ্রহণের পর প্রথম ১০০ দিন পূর্ণ করে, ৫৫টি সম্পন্ন কাজের তালিকা প্রকাশ করেছে। প্রকাশনা অনুষ্ঠানটি রবিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক সালমান সাব্বির তালিকাটি উপস্থাপন করেন।
এই অনুষ্ঠানে রাকসু ১০০ দিনে সম্পন্ন করা ৫৫টি উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি অতিরিক্ত ৪৮টি অন্যান্য কার্যক্রমের উল্লেখও করেন। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে লিখিত পরামর্শ ও অভিযোগ সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়, যাতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তাদের মতামত অন্তর্ভুক্ত করা যায়।
থিসিস সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি জনে দশ হাজার টাকা আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে, যা গবেষণার গতি বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বিশিষ্ট অধ্যাপকের অংশগ্রহণে উচ্চশিক্ষা বিষয়ক সেমিনার, গবেষণা সেমিনার এবং ‘সাইবার হুমকি ও ডিজিটাল প্রতিরক্ষা’ শীর্ষক কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের রিডিং ও ডিসকাশন রুমের ব্যবহারিক সময় বাড়ানো হয়েছে, নতুন রাউটার স্থাপন এবং বিডিরেন (Bdren) সেবা মাধ্যমে আবাসিক হলের ওয়াই-ফাই সার্ভে ও পরিদর্শন সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি হরাইজন্টাল ফাইবার অপটিক লাইন প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যা ইন্টারনেট গতি ও স্থায়িত্বে উন্নতি আনবে।
শিক্ষক মূল্যায়ন নীতিমালা নিয়ে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত সেল (IQAC) পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যাতে মূল্যায়নের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করা যায়। এই আলোচনার ফলস্বরূপ ভবিষ্যতে শিক্ষক মূল্যায়নের মানদণ্ডে কিছু পরিবর্তন আনা হবে।
শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানে আবাসিক হল ও জিমনেসিয়ামে নিরাপদ পানির ফিল্টার স্থাপন করা হয়েছে, খাবার ও বাজারের গুণগত মান পর্যবেক্ষণের জন্য মনিটরিং ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। ক্যাফেটেরিয়ায় পর্দা কর্নার চালু করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত গোপনীয়তা ও আরাম প্রদান করবে।
মেয়েদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়ামের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে, যা নারী শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতা ও ক্রীড়া অংশগ্রহণে উৎসাহ দেবে। কেন্দ্রীয় মসজিদ ও ক্যাফেটেরিয়ায় আলাদা নামাজ ও বিশ্রাম কক্ষ (পুস্তকসহ) গঠন করা হয়েছে, যাতে ধর্মীয় চাহিদা ও বিশ্রামের সুবিধা একসাথে পাওয়া যায়।
অজুখানা নামে একটি নতুন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, এবং রাকসু কমপ্লেইন অ্যান্ড অ্যাডভাইস সেন্টার (RCAS) এর ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা অনলাইনভাবে অভিযোগ ও পরামর্শ জমা দিতে পারবে। হিজাব বিতরণ ও হিজাব-নিকাব পরিধানের অধিকার সংরক্ষণে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় সহায়ক হবে।
ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে নিরাপদ খাবার ও তথ্য সেবা প্রদান করা হবে। এছাড়া বিসিএস পরীক্ষার্থীদের জন্য আটটি বাস সরবরাহ করা হয়েছে, যা তাদের যাতায়াতের ঝামেলা কমাবে। মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় ‘মাইন্ড কেয়ার ক্যাম্পেইন’ চালু করা হয়েছে, এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তা প্রকল্প শুরু হয়েছে।
ক্যাম্পাসের অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে রাস্তার সংস্কার কাজ, ই-কার চালু করা এবং শেরে বাংলা হলের শিক্ষার্থীদের নতুন হলে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই শতাধিক খেজুর ও তালগাছের চারা রোপণ, সৌন্দর্যবর্ধনমূলক বৃক্ষরোপণ এবং ড্রেন ও নর্দমা পরিষ্কার করা হয়েছে, যা পরিবেশের স্বাস্থ্যের উন্নতি করবে। ক্যাম্পাস পরিষ্কার অভিযানও সমাপ্ত হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করবে।
রাকসু কর্তৃক গৃহীত এই পদক্ষেপগুলো শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ, নিরাপত্তা ও মঙ্গলের দিকে লক্ষ্য রেখে নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও কোন উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে, তা জানার জন্য রাকসু কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। আপনার ক্যাম্পাসে কোন সুবিধা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তা নিয়ে মন্তব্য করুন।



