রবিবার ঢাকার কারওয়ান বাজারে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা সম্পর্কে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে ভুল বলে খণ্ডন করেন। তিনি জানিয়েছেন, নিজের ও স্ত্রীর কূটনৈতিক পাসপোর্ট এখনও তার হাতে রয়েছে এবং তা সক্রিয় অবস্থায় আছে।
প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি জোর দিয়ে বললেন, মেয়াদ চলাকালীন কোনো মন্ত্রী বা উপদেষ্টা কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেয়া অস্বাভাবিক এবং তিনি এমন কোনো পদক্ষেপ নেননি। তার মতে, এই ধরনের কাজ সাধারণত মেয়াদ শেষের পরই করা হয়।
উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সংবাদে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তিনজন উপদেষ্টা কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন বলে প্রকাশ পেয়েছে। তবে তিনি নির্দিষ্ট নাম প্রকাশ না করে, কেবলমাত্র কিছু উপদেষ্টা এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছেন বলে জানান।
কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়ার মূল উদ্দেশ্যকে তিনি বিদেশে ভিসা প্রাপ্তি সহজ করার প্রয়াস হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার নিজের পাসপোর্টের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি এবং তা এখনও বৈধ।
কিছু মন্ত্রী ও উপদেষ্টা বিদেশে ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে কূটনৈতিক পাসপোর্ট ত্যাগ করে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারেন, তৌহিদ হোসেন এ বিষয়ে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় সময় সাশ্রয় হয় এবং ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুততর হয়।
ভিসা সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বি-ওয়ান ও বি-টু ভিসার উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করেন যে, পাসপোর্ট বাতিল হলেও ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না; তবে নতুন পাসপোর্টে ভিসা স্থানান্তর করতে হয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে কূটনৈতিক পাসপোর্টের ব্যবহারিক সুবিধা সীমিত হতে পারে।
প্রশিক্ষণটি মিডিয়া রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই), ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিক্যাব) এবং জাতিসংঘের ‘ব্যালট’ ও ‘ড্রিপ’ প্রকল্পের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা নির্বাচন বিষয়ক বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করার পর উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনকে প্রশ্ন করেন।
উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নির্মাতা বোয়িং থেকে চারটি বিমান ভাড়া নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রাথমিক পর্যায়ে আছেন এবং প্রথমে ভাড়া ভিত্তিক ব্যবস্থা বিবেচনা করা হচ্ছে।
বৈদ্যুতিক ও বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ ক্রয়ের প্রক্রিয়ায় এই ধাপটি সরকারকে আর্থিক দিক থেকে স্বল্পমেয়াদে সুবিধা দিতে পারে বলে তিনি বিশ্লেষণ করেন। ভবিষ্যতে সরাসরি ক্রয় করা হলে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গঠন করা হবে।
তৌহিদ হোসেনের মন্তব্যের পর উপস্থিত সাংবাদিকরা কূটনৈতিক পাসপোর্টের ব্যবহার ও ভিসা প্রক্রিয়ার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, তার পাসপোর্টের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি এবং তিনি কোনো অননুমোদিত পদক্ষেপ নেননি।
এই বিবৃতি সরকারী পর্যায়ে কূটনৈতিক পাসপোর্টের নিয়মাবলী ও তার ব্যবহারিক দিক নিয়ে আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করেছে। পরবর্তী সময়ে উপদেষ্টা পরিষদে এই বিষয়টি নিয়ে আরও বিশদ আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, তৌহিদ হোসেনের এই স্পষ্টকরণ সরকারী নীতি ও বিদেশি ভ্রমণ পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ভবিষ্যতে কূটনৈতিক পাসপোর্টের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করতে পারে।



