বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মার্চ ২০২৩ থেকে নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত দেশের ক্রেডিট কার্ডের গৃহস্থালি লেনদেনের মূল্য ৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে, কার্ডের সংখ্যা সেপ্টেম্বর ২০২০-এ ১৬.৩৯ লক্ষ থেকে নভেম্বর ২০২৫-এ প্রায় ২৮ লক্ষে পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যানগুলো নগদমুক্ত অর্থনীতির দিকে অগ্রগতির সূচক হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বারবার উল্লেখ করেছে।
যদিও লেনদেনের পরিমাণ বাড়ছে, তবে এই বৃদ্ধির গভীরতা ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা দেখছেন যে, ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার এখনও সীমিত সেক্টরে কেন্দ্রীভূত, যা ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
মার্চ ২০২৩ থেকে নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত প্রতিমাসে ডিপার্টমেন্ট স্টোরগুলো গৃহস্থালি ক্রেডিট কার্ড ব্যয়ের প্রায় অর্ধেক অংশ দখল করেছে। বিশেষ করে জুলাই ২০২৫-এ এই অংশ ৪৮.৯ শতাংশে পৌঁছায়, অর্থাৎ মোট ব্যয়ের প্রায় অর্ধেক বড় খুচরা চেইনগুলোতে চলে যায়।
শপনো, মীনা বাজার, ইউনিমার্ট এবং অনুরূপ বড় ডিপার্টমেন্ট স্টোরগুলো এই শেয়ারের প্রধান গ্রাহক। এই প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের কার্ড-লিঙ্কড ছাড় ও প্রচারমূলক অফার দিয়ে আকৃষ্ট করছে।
Visa কোম্পানির দেশীয় ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী, বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মতো উদীয়মান বাজারে ক্রেডিট কার্ডের সবচেয়ে বড় ব্যয় বিভাগগুলো সাধারণত খাবার, মুদি, জ্বালানি, বীমা এবং ডিসকাউন্ট স্টোরে কেন্দ্রীভূত থাকে। এই প্রবণতা উন্নত অর্থনীতির তুলনায় ভিন্ন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে রেস্টুরেন্ট, হোটেল ও পোশাকের খুচরা বিক্রয় প্রধান।
উন্নত বাজারে কার্ডের ব্যবহার বিস্তৃত সেবা ও পণ্যের মধ্যে ছড়িয়ে থাকে, যা দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কার্যক্রমে কার্ডের সমন্বয়কে নির্দেশ করে। তবে বাংলাদেশে বর্তমানে ব্যবহার মূলত নির্দিষ্ট খুচরা সেক্টরে সীমাবদ্ধ, যা বাজারের বৈচিত্র্যকে বাধাগ্রস্ত করে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ডিপার্টমেন্ট স্টোরের আধিপত্যকে দু’টি মূল কারণের সঙ্গে যুক্ত করেছে: উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি দ্বারা চালিত প্রয়োজনীয় ব্যয় এবং ব্যাংকের প্রচারমূলক ক্যাম্পেইন। মুদ্রাস্ফীতি দ্বিগুণ অঙ্কে থাকায় গৃহস্থালি গ্রাহকরা এমন খুচরা বিক্রেতা বেছে নিচ্ছে, যারা কার্ড-লিঙ্কড ছাড় প্রদান করে।
প্রচলিত বাজারে এই ধরনের সুবিধা কম, ফলে গ্রাহকরা সংগঠিত রিটেইল চেইনে বেশি ঝুঁকছেন। একই সঙ্গে, ব্যাংকের সক্রিয় প্রচার ও প্রণোদনা গ্রাহকদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
এই কেন্দ্রীভূত কাঠামো বাজারে ঝুঁকি ও অস্থিরতা বাড়াতে পারে। যদি কোনো বড় চেইন কোনো অর্থনৈতিক শক বা নীতি পরিবর্তনের মুখোমুখি হয়, তবে ক্রেডিট কার্ডের মোট লেনদেনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া, সীমিত সেক্টরে ব্যয় কেন্দ্রীভূত হওয়ায় ডিজিটাল পেমেন্টের বিস্তৃত গ্রহণে বাধা সৃষ্টি হয়।
ভবিষ্যতে মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস এবং পেমেন্ট ইকোসিস্টেমের বৈচিত্র্য বাড়লে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার অন্যান্য সেক্টরে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্তমান কেন্দ্রীভূত প্রবণতা বজায় থাকলে, বাজারের স্থিতিশীলতা ও বৃদ্ধি সীমিত হতে পারে।



