28 C
Dhaka
Saturday, May 9, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাইন্টারনাল কন্টেইনার ডিপো ছয় মাসে ২০% ট্যারিফ বৃদ্ধি স্বীকার করেছে

ইন্টারনাল কন্টেইনার ডিপো ছয় মাসে ২০% ট্যারিফ বৃদ্ধি স্বীকার করেছে

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সেক্রেটারি মো. ওমর ফারুকের জানানো মতে, দেশের অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার ডিপো (ICD) মালিক ও সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিনিধিরা আজ একত্রে ছয় মাসের জন্য রপ্তানি ও ফাঁকা কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ফি-তে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি অনুমোদন করেছে। এই সিদ্ধান্তটি শীঘ্রই কার্যকর হবে এবং রপ্তানি খাতের লজিস্টিক ব্যয়কে সরাসরি প্রভাবিত করবে।

বৃহত্তর স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস.এম. মনিরুজ্জামান একটি বৈঠক আয়োজন করেন, যেখানে গার্মেন্টস ও নিটওয়্যার রপ্তানিকারক, ফ্রেট ফরোয়ার্ডার, শিপিং এজেন্ট এবং কন্টেইনার শিপিং সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রাইভেট ICD গুলোর ট্যারিফ বৃদ্ধি নিয়ে চলমান বিরোধ সমাধান করা।

গত মাসে ICD অপারেটররা ১১ ডিসেম্বর থেকে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং বন্ধ করার হুমকি জানিয়ে ব্যবহারকারীদের বাড়তি ফি প্রদান না করার ইঙ্গিত দেন। ব্যবহারকারীদের বিরোধের পর, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে ওই পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয় এবং আলোচনার পথ খুলে যায়।

বেংগালদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশন (BICDA) জুলাই ২০২৫-এ রপ্তানি ও ফাঁকা কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ফি-তে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি ঘোষণা করেছিল। এই পদক্ষেপের পেছনে অপারেশনাল ব্যয় বৃদ্ধি, মুদ্রা অবমূল্যায়ন এবং মুদ্রাস্ফীতি চাপের উল্লেখ করা হয়েছিল।

বৃদ্ধি পরিকল্পনা নিয়ে শিল্পের তীব্র বিরোধের ফলে বিষয়টি উচ্চ আদালতে পৌঁছায়, যেখানে সংশোধিত ট্যারিফ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে শিপিং মন্ত্রণালয় নতুন কোনো ফি আরোপের আগে অনুমোদন নিতে নির্দেশ দেয়, যা ট্যারিফ সংশোধনের প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছিল।

আজকের সম্মেলনে BICDA, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (BGMEA), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (BKMEA), বাংলাদেশ ফ্রেট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন (BAFFA), বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (BSAA) এবং বাংলাদেশ কন্টেইনার শিপিং অ্যাসোসিয়েশন (BCSA) এর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সকল পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে ২০ শতাংশ ট্যারিফ বৃদ্ধি ছয় মাসের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে।

এই ট্যারিফ বৃদ্ধির ফলে গার্মেন্টস ও নিটওয়্যার রপ্তানিকারকদের লজিস্টিক খরচে প্রায় দুই দশক থেকে তিন দশক শতাংশ বাড়তি ব্যয় হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ফি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শিপিং লাইনগুলোর ফ্রেট রেটেও সামান্য বৃদ্ধি প্রত্যাশিত, যা রপ্তানি পণ্যের মোট মূল্যকে প্রভাবিত করতে পারে।

বাজারে ইতিমধ্যে এই পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে; কিছু রপ্তানিকারক অতিরিক্ত ব্যয় কমাতে বিকল্প লজিস্টিক চ্যানেল অনুসন্ধান শুরু করেছেন। তবে, ট্যারিফের স্বল্পমেয়াদী প্রকৃতি এবং ছয় মাসের সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করলে, শিল্পের বড় পরিবর্তন ঘটার সম্ভাবনা কম।

দীর্ঘমেয়াদে ট্যারিফ নীতির স্থিতিশীলতা রপ্তানি প্রতিযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যদি ভবিষ্যতে আবার বড় বৃদ্ধি হয়, তবে মুদ্রা অবমূল্যায়ন ও ইনফ্লেশন চাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নীতি নির্ধারণের প্রয়োজন হবে। বর্তমান সমঝোতা শিল্পের স্বল্পমেয়াদী আর্থিক চাপ কমিয়ে দেয়, তবে ধারাবাহিক নীতি সমর্থন ছাড়া ট্যারিফের অস্থিরতা রপ্তানি খাতের লাভজনকতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

সারসংক্ষেপে, আজকের সম্মেলনে ২০ শতাংশ ট্যারিফ বৃদ্ধি ছয় মাসের জন্য অনুমোদিত হয়েছে, যা রপ্তানি লজিস্টিকের ব্যয় কাঠামোতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। শিল্পের প্রধান সংস্থাগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপে এই সমঝোতা অর্জিত হয়েছে, তবে ভবিষ্যতে ট্যারিফ নীতির ধারাবাহিকতা ও স্বচ্ছতা রপ্তানি প্রতিযোগিতার জন্য মূল চাবিকাঠি হিসেবে রয়ে যাবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments