শামীম হোসেনের অবিচল ৪৩ রান সিলেট টাইটান্সকে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ছয় রনের পার্থক্যে জয়ী করিয়ে দিল। শেষ ওভারে শামীমের একক প্রচেষ্টা ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের বিদায়ে অষ্টম উইকেট পড়ার পর ঢাকা ক্যাপিটালসের লক্ষ্য ছিল ২১ রান ৫৬ বলের মধ্যে অর্জন করা, তবে মোট ৩৭ রান ঘাটতি ছিল। শামীম হোসেন ৫০ রান চাহিদা পূরণে শেষের ওভারে ছিলেন এবং দলকে জয়ী করার দায়িত্ব তার হাতে নেমে আসে।
শামীম শেষ তিন ওভারে আক্রমণাত্মক শটের ধারাবাহিকতা দেখালেন। রিভার্স সুইপ, রিভার্স র্যাম্পসহ বিভিন্ন শটের মাধ্যমে তিনি দ্রুত রান সংগ্রহ করতে শুরু করেন, যা দলের স্কোরে ত্বরান্বিত বৃদ্ধি ঘটায়।
প্রতিপক্ষের শীর্ষ বোলার আজমাতুল্লাহ ওমারজাই এবং মোহাম্মদ আমিরের মুখোমুখি হয়ে শামীম ধারাবাহিকভাবে রানের সঞ্চয় করেন। ওমারজাইয়ের ১৯তম ওভারে তিনি ১৮ রান যোগ করেন, আর আমিরের শেষ ওভারে ২৭ রান দরকার ছিল, তবু তিনি মাত্র ৭ রানই দিতে সক্ষম হন।
শেষ ওভারে আমিরের প্রায় নিখুঁত ইয়র্কার শামীমকে ব্যাট হাতে রেখে দিল। শামীমের একমাত্র সুযোগ ছিল এক সিঙ্গল নেওয়া, তবে তিনি হাতের ইশারায় ব্যাটসম্যানকে দৌড়াতে না বলার মাধ্যমে তা প্রত্যাখ্যান করেন। শেষ ডেলিভারিতে ছক্কা না মারার ফলে সিলেট টাইটান্স ৬ রনে জয়ী হয়।
শামীমের পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান দেখায় তিনি ৯টি চার এবং ৩টি ছক্কা মারতে সক্ষম হয়ে ৮১ বলের মধ্যে ৪৩ রান অবিচলিতভাবে সংগ্রহ করেন। এটি তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ স্কোর, যদিও শেষ ডেলিভারিতে তিনি কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেন।
শামীম বললেন, “ভালো বল করে ফেলেছে… এক্সট্রা অর্ডিনারি বল করে ফেলছে। এটায় আমার কিছু করার ছিল না…” তিনি দলের অন্যান্য খেলোয়াড়ের ব্যর্থতাকে নিয়ে নিজের অসহায়ত্বের কথা উল্লেখ করেন।
ঢাকা ক্যাপিটালসের অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন শামীমের ইনিংসকে প্রশংসা করে বলেন, “অসাধারণ ইনিংস ছিল। আমরা জানি শামীমের সামর্থ্য কেমন। এটা স্রেফ ‘ওয়ান ম্যান শো’ ছিল। আমাদের ব্যাটিংয়ের কথা বললে, কেবল শামীমই টিকে ছিল। অন্য কেউ তার পাশে থাকলে ভিন্ন ফল হতে পারত।”
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে শামীমের একক প্রচেষ্টা এবং ক্যাপ্টেনের মন্তব্য মিলিয়ে দেখা যায়, সিলেট টাইটান্সের জয় মূলত শামীমের একক শোয়ের ফল। দলীয় সমর্থনের অভাব সত্ত্বেও শামীমের অবদানই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা রাখে।



