বিকালবেলা বৃহস্পতিবার, মাওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ব্র্যাক ব্যাংক অপোরাজে আলো নারী হকি টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত ম্যাচে BKSP দল জোন‑২ (ঢাকা ও ময়মনসিংহ)কে ৮-০ স্কোরে পরাজিত করে শিরোপা জয়লাভ করে। এই জয় টুর্নামেন্টের সমাপ্তি চিহ্নিত করে এবং BKSP-কে নারী হকির শীর্ষে স্থাপন করে।
এক মাসব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় মোট ১৯টি দল অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ৩৫২ জন খেলোয়াড় মাঠে নামেন এবং মোট ৪৭টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এভাবে দেশীয় নারী হকির ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ টুর্নামেন্টের রেকর্ড তৈরি হয়েছে।
সারাজীবন টুর্নামেন্ট জুড়ে BKSP দল ধারাবাহিকভাবে শীর্ষে রইল, প্রতিটি পর্যায়ে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়ে। দলটির আক্রমণাত্মক খেলা এবং সুশৃঙ্খল প্রতিরক্ষা শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত ম্যাচে স্পষ্ট ফলাফল এনে দেয়।
চূড়ান্ত ম্যাচে BKSP দ্রুতই আধিপত্য গড়ে তুলল, প্রথমার্ধে একাধিক গোলের মাধ্যমে পার্থক্য বাড়িয়ে দিল। শেষ পর্যন্ত ৮টি গোলের বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে, জোন‑২য়ের কোনো গোল না থাকায় ফলাফল আরও চিত্তাকর্ষক হয়ে ওঠে।
টুর্নামেন্টের শীর্ষ স্কোরার হিসেবে আরপিতা পালের নাম উঠে আসে; তিনি পুরো প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ গোলের সংখ্যা অর্জন করে টুর্নামেন্টের শীর্ষ স্কোরার উপাধি অর্জন করেন। তার গোলের ধারাবাহিকতা দলকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অগ্রগতি দিতে সহায়তা করে।
খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্সের দিক থেকে এয়ারিন আক্তার রিয়াকে টুর্নামেন্টের সর্বোত্তম খেলোয়াড়ের পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে তার সৃষ্টিশীলতা এবং মাঠে নেতৃত্বের গুণাবলি বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।
চূড়ান্ত ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের উপাধি ফারদিয়া আক্তার রাত্রি পেয়েছেন, যিনি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের জন্য সুনির্দিষ্ট চালনা ও সুরক্ষা প্রদান করেন। গোলরক্ষক মোহুয়া সর্বোত্তম গোলরক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি পান, আর আপুর্বো আক্তারকে উদীয়মান তারকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
টুর্নামেন্টের সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে মধ্য জানুয়ারি থেকে এশিয়ান গেমস কোয়ালিফায়ারসের প্রস্তুতির জন্য ২৫ জন খেলোয়াড়কে উন্নত প্রশিক্ষণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই নির্বাচিত খেলোয়াড়রা বিশেষ প্রশিক্ষণ পাবে, যা ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের প্রতিনিধিত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
BKSP-এর এই জয় এবং টুর্নামেন্টের বিশাল অংশগ্রহণ নারী হকির বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। ভবিষ্যতে এশিয়ান গেমস কোয়ালিফায়ারস এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ইভেন্টে দেশের নারী হকি দলকে শক্তিশালী করে তুলতে এই ধরনের টুর্নামেন্টের গুরুত্ব অপরিসীম।



