রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা খেরসন অঞ্চলের উপকূলীয় গ্রাম খোরলিতে নতুন বছরের উদযাপনের সময় ইউক্রেনীয় ড্রোনের আক্রমণ ঘটেছে। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনটি ড্রোন বেসামরিক নাগরিকদের সমবেত স্থানে আঘাত হানে, যার ফলে অন্তত ২৪ জনের প্রাণ ত্যাগ করে এবং কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে ছয়জন নাবালক এবং একজন শিশুও অন্তর্ভুক্ত, যাঁরা সকলেই স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন।
খেরসন অঞ্চলের রাশিয়ান‑নিযুক্ত গভর্নর ভ্লাদিমির সালদো এই ঘটনার প্রথম ঘোষণাকারী ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ড্রোনগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে সেই এলাকায় আঘাত হানে যেখানে পরিবারগুলো নববর্ষের আনন্দে একত্রিত হয়েছিল, ফলে অগণিত মানুষ আগুনে পুড়ে মারা যায়। সালদো এই আক্রমণকে ‘ইচ্ছাকৃত বেসামরিক হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করে, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন বলে দাবি করেন।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একই দিনে বিবৃতি প্রকাশ করে, যেখানে বলা হয়েছে যে এই হামলায় ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে এক শিশুও অন্তর্ভুক্ত। আহতদের সংখ্যা কমপক্ষে ৫০, যার মধ্যে ছয়জন নাবালক, এবং সব রোগীকে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, এই আক্রমণ পূর্ব পরিকল্পিত ছিল এবং ড্রোনগুলো নির্দিষ্টভাবে বেসামরিক জনগণ সমাবেশস্থলে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করে, এই ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ এই ঘটনার পর মস্কোকে আশ্বাস দেন যে, রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিশোধ নেবে এবং হামলাকারী ও তাদের কমান্ডারদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী ঘটনাটির বিষয়ে তাত্ক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে পূর্বে ইউক্রেন রাশিয়ার ওপর একই ধরনের বেসামরিক আক্রমণের অভিযোগ তুলে আসছে, যেখানে রাশিয়ার বোমা ও রকেট হামলায় বহু শহরে নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, বর্তমান আক্রমণকে উভয় পক্ষের পারস্পরিক অভিযোগের ধারায় যুক্ত করা হচ্ছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা টেলিগ্রাম মাধ্যমে জানিয়েছেন, এই ঘটনার জন্য শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্রদেরই দায়িত্ব। তিনি যুক্তি দেন, ইউক্রেনের সামরিক কার্যক্রমে পশ্চিমা দেশগুলোর সরবরাহিত অস্ত্র ও প্রযুক্তি সরাসরি এই ধরণের বেসামরিক ক্ষতির কারণ। এই বক্তব্যের পর রাশিয়ার সংসদের দুই কক্ষের স্পিকারসহ শীর্ষ রাজনীতিবিদ কিয়েভের প্রতি তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেন।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মানবিক আইনের লঙ্ঘন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। ইউক্রেন ও রাশিয়ার চলমান সংঘর্ষে বেসামরিক প্রাণহানির হার বাড়তে থাকায়, জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় নিরাপত্তা সংস্থা উভয়ই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষত নববর্ষের মতো সাংস্কৃতিক উৎসবের সময়ে ঘটিত এই ধরণের আক্রমণকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিন্দার মুখে রাখছে।
খেরসন অঞ্চলে চলমান সামরিক সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে, এই আক্রমণটি কেবলমাত্র মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ায় না, বরং শান্তিপূর্ণ উদযাপনের মুহূর্তগুলোকে রক্তাক্ত করে তুলেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক হামলা রোধে কী ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। বর্তমান পরিস্থিতি অনুসারে, উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্রতা বাড়তে পারে, এবং মানবিক সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তীব্রতর হতে পারে।



