নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা এলাকার দেওভোগ নাগবাড়ি মোড়ে, ফলের দোকানের সামনে, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল প্রায় সাতটায় চাঁদাবাজি নিয়ে সংঘটিত মারধরে ২৪ বছর বয়সী রায়হান খান নিহত হয়।
রায়হান খান চাঁদপুর সদর থানার বহরিয়া এলাকার মৃত বিল্লাল খানের ছেলে; তিনি ফতুল্লা থানার তাঁতীবাড়ি এলাকায় ইয়াসিন চৌধুরীর বাড়িতে ভাড়া বাসা করছিলেন।
ফতুল্লা থানা পুলিশ জানায়, রায়হান খান পূর্বে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদকসেবনের অভিযোগে একাধিক মামলায় আসামি ছিলেন এবং তার ওপর এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অসন্তোষের কারণ ছিল।
ঘটনার দিন রায়হান স্থানীয় গ্যারেজের মালিকের কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নেয়। পরে তিনি কাছাকাছি হোটেলের এক কর্মচারীর কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন, কিন্তু কর্মচারী তা দিতে অস্বীকার করে।
অস্বীকারের পর রায়হান রাগে গিয়ে নিজের বাসা থেকে একটি দা নিয়ে কর্মচারীর দিকে এগিয়ে যায় এবং শারীরিকভাবে আক্রমণ করে।
এই মুহূর্তে আশেপাশের মানুষ রায়হানকে ঘিরে ধরতে থাকে এবং তার ওপর অতিরিক্ত আক্রমণ চালায়। কিছু সময় পর উপস্থিত কেউ ধারালো কোনো অস্ত্র ব্যবহার করে রায়হানের মাথা ও কপালে আঘাত হানে।
মাথা ও কপালের আঘাতের ফলে রায়হান ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়।
স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রায়হানকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় শোয়ায় পাওয়া যায় এবং তৎক্ষণাৎ ৯৯৯ নম্বরে কল করা হয়।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী স্ট্রিমকে জানান, পুলিশ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে সদর জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
ময়নাতদন্তের আগে দেহটি স্থানীয় থানা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং মৃতদেহের অবস্থা নিশ্চিত করা হয়।
ঘটনার পর থানায় এখনও কোনো FIR দাখিল হয়নি; তবে তদন্তের জন্য প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা রায়হানের অতীত অপরাধ ও চাঁদাবাজি কার্যকলাপের কারণে তার ওপর দীর্ঘদিনের বিরক্তি প্রকাশ করে, এবং ঘটনাটি তাদের জন্য শেষের চিৎকার বলে উল্লেখ করে।
পুলিশ বর্তমানে ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী বিবৃতি এবং ভিডিও রেকর্ডের মাধ্যমে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
অধিক তথ্য না থাকায়, তদন্তের অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।



