শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রী বিজিতা হেরাথ বুধবার রাত ৮:৩০ টার দিকে ঢাকার গুলশানের বিএনপি চেয়ারপার্সনের অফিসে তরিক রাহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাৎকারটি তরিকের কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত অবস্থায় অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের সময় শ্রীলঙ্কার বাংলাদেশে উচ্চায়ুক্ত ধর্মপাল ওয়েরাক্কোডি মন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। দুজনেই তরিকের সঙ্গে দু’পাশের পারস্পরিক স্বার্থের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
বিজিতা হেরাথের এক্স (X) পোস্টে তিনি শোক প্রকাশের কথা উল্লেখ করেন। তিনি শেয়ার করেন যে শ্রীলঙ্কা সরকার ও জনগণ বাংলাদেশের জনগণকে এবং শোকাহত পরিবারকে গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি শোকবইতে স্বাক্ষর করে তা অফিসে রেখে যান।
বৈঠকে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা পারস্পরিক সহযোগিতা, বাণিজ্যিক বিনিময় এবং পর্যটন ক্ষেত্রের সম্ভাব্য প্রকল্প নিয়ে মতবিনিময় করেন। শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বকে আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে গেছেন।
বিজিতা হেরাথ তরিক রাহমানের পরিবারকে বিশেষভাবে সমবেদনা জানিয়ে তার মায়ের, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর শোক প্রকাশ করেন। তিনি তরিকের পরিবারকে এই কঠিন সময়ে সমর্থন জানানোর প্রতিশ্রুতি দেন।
বিএনপি মিডিয়া সেল জানিয়েছে যে, বৈঠকে বিএনপি স্ট্যান্ডিং কমিটি সদস্য আমির খোসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং যৌথ সচিব সাধারণ হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন। সকল উপস্থিত সদস্যই পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলোতে মতবিনিময় করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মঙ্গলবার সকালবেলায় এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে ৭৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বহু স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে মৃত্যুবরণ করেন এবং তার মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে গভীর শোকের সৃষ্টি করে।
খালেদা জিয়ার দেহ বুধবার ঢাকার শের-ই-বাংলা নগরে তার স্বামী, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পাশে সমাধিস্থ করা হয়। সমাধি অনুষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়।
শ্রীলঙ্কা মন্ত্রীর এই সফর এবং শোকবক্তব্য দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করার ইঙ্গিত দেয়। শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ উভয়ই সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক সংযোগ বাড়াতে এবং পর্যটন শিল্পে পারস্পরিক সুবিধা নিতে চায়।
বিএনপি’র জন্য এই সাক্ষাৎকারটি রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তরিক রাহমানের নেতৃত্বে দলটি শোকের সময়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন ও সমবেদনা পেতে সক্ষম হয়েছে। শ্রীলঙ্কার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার উপস্থিতি দলটির আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি বাড়িয়ে দেয়।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের মধ্যে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক চুক্তি, শিক্ষাবিদ্যা বিনিময় এবং সাগর নিরাপত্তা সংক্রান্ত সহযোগিতা বাড়তে পারে। তরিক রাহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এই সুযোগকে ব্যবহার করে দেশের বহিরাগত নীতি শক্তিশালী করতে চাইবে।
বৈঠকের পর শ্রীলঙ্কা মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে আরও উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার সূচনা হতে পারে। উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে নতুন প্রকল্পের পরিকল্পনা তৈরি করার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবে।
এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা সরকার বাংলাদেশের শোকের সময়ে সমবেদনা প্রকাশের পাশাপাশি দু’দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের উচ্চ পর্যায়ের মিথস্ক্রিয়া দু’দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তি গড়ে তুলবে।



