ইরানের লোরেস্তান প্রদেশের কুহদাশ্ত শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের মৃত্যু ঘটেছে, যা দেশের চতুর্থ ধারাবাহিক প্রতিবাদে ঘটেছে। অর্থনৈতিক সংকটের ফলে রুপি-ডলার বিনিময় হার হঠাৎ পতনের পর শপিং কেন্দ্রগুলোতে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, ২১ বছর বয়সী বাসিজ সদস্য গুলিবর্ষণে নিহত হয়। এই ঘটনা দেশের সামগ্রিক অশান্তির সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সেই ঘটনার সময় নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য পাথর নিক্ষেপে আহত হয়। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে তেরজন পুলিশ ও বাসিজ সদস্য শিলাবর্ষণের ফলে আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে কিছু গুরুতর আঘাতের শিকার, যা চিকিৎসা সেবার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।
বিবিস পার্সিয়ান দ্বারা যাচাই করা ভিডিওতে একই দিনে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রতিবাদকারীদের দিকে গুলি চালানোর দৃশ্য দেখা যায়। একই সময়ে হেমেদান ও ফার্সের কিছু অংশে তীব্র সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনাগুলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অব্যাহত উত্তেজনার ইঙ্গিত দেয়।
তাহেরানে বুধবার সরকার হঠাৎ ব্যাংক ছুটি ঘোষণা করে, যা প্রতিবাদ দমন করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ছুটির মাধ্যমে স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকার এ ছুটির কারণ হিসেবে শীতল আবহাওয়ায় শক্তি সাশ্রয়ের কথা উল্লেখ করেছে, যদিও এটি জনমতকে বিভক্ত করেছে।
ফার্স প্রদেশের ফাসা শহরে প্রতিবাদকারীরা স্থানীয় সরকার ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করে, ফলে তিনজন পুলিশ আহত হয় এবং চারজন প্রতিবাদকারী গ্রেফতার হয়। ভিডিওতে গেট ভেঙে প্রবেশের দৃশ্য এবং নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি চালানোর মুহূর্ত দেখা যায়। গ্যাসের ধোঁয়া শহরের রাস্তা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, যা পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে। এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেয়।
সামাজিক মিডিয়ায় প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, গেট ভাঙার পর নিরাপত্তা কর্মীরা তীব্র গুলিবর্ষণ করে, এবং তীব্র গ্যাসের ধোঁয়া শপিং মলের সামনে ছড়িয়ে পড়ে। গুলিবর্ষণ ও গ্যাসের ব্যবহার প্রতিবাদকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়ে তুলেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর এই পদক্ষেপগুলোকে কিছু বিশ্লেষক কঠোর দমনমূলক হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে ছুটির ঘোষণাকে শক্তি সঞ্চয়ের উদ্যোগ বলা হলেও, বহু ইরানিরা এটিকে প্রতিবাদ দমন করার কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। বিশেষ করে শপিং কেন্দ্রের মালিকদের মধ্যে মুদ্রা পতনের ফলে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অসন্তোষ বাড়ছে। জনগণের মধ্যে এই ছুটির প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে বিতর্ক তীব্রতর হয়েছে।
প্রতিবাদগুলো মূলত তেহরানে শুরু হয়, যেখানে দোকানদাররা রুপি-ডলার হারের তীব্র পতনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রাস্তায় নেমে আসে। মুদ্রা মূল্য হ্রাসের ফলে দৈনন্দিন জীবনের ব্যয় বাড়ে, যা জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক বিরোধের জন্ম দেয়। এই অর্থনৈতিক চাপই এখনো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
অধিকাংশ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের মৃত্যু ও আহতদের সংখ্যা বাড়ার



