ঢাকা, ১ জানুয়ারি ২০২৬ – বিএনপি কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তরিক রাহমান তার মা, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শেষ সমাহি অনুষ্ঠানে জাতির স্নেহ ও সমর্থনের কথা জানিয়ে দেশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সমাধি অনুষ্ঠানটি ঢাকার জাতীয় সমাধিস্থলে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে খালেদা জিয়া তার স্বামী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে সমাহিত হন।
তরিক রাহমানের মতে, এই কঠিন মুহূর্তে দেশের মানুষের উপস্থিতি তাকে একাকিত্বের অনুভূতি থেকে মুক্তি দিয়েছে এবং তিনি অনুভব করছেন যে পুরো দেশ তার পরিবার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মা-কে বিদায় জানাতে গিয়ে তিনি দেশের সবার কাছ থেকে প্রাপ্ত স্নেহের বোধকে তার জীবনের সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা হিসেবে অনুভব করছেন।
সমাহি অনুষ্ঠানে লক্ষ লক্ষ নাগরিক, প্রতিবেশী, বন্ধু ও সমর্থক একত্রিত হয়েছেন। মানুষজন শোকের ছায়ায়ও একত্রিত হয়ে খালেদা জিয়ার জীবন ও অবদানের প্রতি সম্মান জানাতে ভিড় জমিয়েছেন। উপস্থিতির বিশালতা তরিক রাহমানের মতে, তার মা-কে কেবল তার নিজের মা নয়, বরং জাতির মা হিসেবে গণ্য করার প্রমাণ।
দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদেরও সমাবেশে অংশ নেওয়া দেখা যায়। পাকিস্তান, ভারত ও শ্রীলঙ্কার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত হয়ে শোক প্রকাশ করেছেন, আর অন্যান্য দেশের দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও সমবেদনা জানাতে দূর থেকে বার্তা পাঠিয়েছেন। তরিক রাহমান এই আন্তর্জাতিক সমর্থনকে দেশের প্রতি এক অতিরিক্ত সম্মান হিসেবে উল্লেখ করেন।
তরিক রাহমান তার স্বামী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বড় ভাই আরাফাত রাহমানের স্মৃতিও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, অতীতের এই ক্ষতিগুলোকে সত্ত্বেও আজকের এই সমাবেশে উপস্থিত মানুষজনের স্নেহ তাকে অপ্রত্যাশিত সান্ত্বনা প্রদান করেছে।
মা-খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কর্মজীবন ও জনসেবার প্রতি তার অটল নিবেদনকে তরিক রাহমান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, তার মায়ের কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন এবং দেশের মানুষের প্রতি তার দায়িত্ববোধকে নতুন করে জোর দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যিনি একাধিক মেয়াদে দেশের শীর্ষে অধিষ্ঠিত, তরিক রাহমানের মায়ের সমাহি অনুষ্ঠানে শোক প্রকাশের বার্তা পাঠিয়েছেন। তিনি দেশের সকল নাগরিককে শোকের সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানান এবং খালেদা জিয়ার অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়েছেন।
বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয়ের এই পারস্পরিক শোকের প্রকাশ রাজনৈতিক পরিবেশে একধরনের মানবিক সেতু গড়ে তুলেছে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন। তরিক রাহমানের এই প্রকাশনা পার্টির অভ্যন্তরে একতা ও সংহতির বার্তা হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে, যা আসন্ন নির্বাচনী চক্রে পার্টির সংগঠনের শক্তি বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।
অবশ্যই, সমাহি অনুষ্ঠানের পরবর্তী দিনগুলোতে বিএনপি বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যক্রমের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। তরিক রাহমানের নেতৃত্বে পার্টি নতুন নীতি ও কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে চায়, যা দেশের উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে কেন্দ্র করে হবে।
এই শোকের মুহূর্তে জাতীয় স্তরে একত্রিত হওয়া জনগণের উপস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন, তরিক রাহমানের মতে, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সংলাপ ও সমঝোতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দেশের সকল স্তরের মানুষ একসাথে কাজ করে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখবে।
সমাহি অনুষ্ঠানটি শেষ হওয়ার পর, তরিক রাহমান পার্টির সদস্য ও সমর্থকদের সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অংশ নেন, যেখানে তিনি পার্টির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান। সমাবেশে উপস্থিত সবাই তরিক রাহমানের এই আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যায়।



