বিশ্ব ২০২৬ সালে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশি ক্রীড়া জগত নতুন বছরকে উদযাপন করার পাশাপাশি দেশের সাম্প্রতিক শোকের মুহূর্তগুলোকে স্মরণ করে। জাতির দুজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের মৃত্যু—প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শারিফ ওসমান হাদি—যা সমগ্র জনগণের হৃদয়ে গভীর শোকের ছাপ ফেলেছে, তাতে ক্রীড়াবিদদের বার্তা শান্তি ও ঐক্যের দিকে মনোনিবেশিত।
ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন লিটন দাস শোকের সময়ে দেশের জন্য শান্তি, ঐক্য এবং ইতিবাচকতা কামনা করে একটি বার্তা শেয়ার করেন। তিনি নতুন বছরের জন্য সমৃদ্ধি ও অর্থবহতা কামনা করে দেশের সকলের জন্য শক্তি ও সাফল্যের প্রার্থনা করেন। তার এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে দলকে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিতে হবে, যেখানে বাংলাদেশি দল শোককে সাফল্যে রূপান্তর করার লক্ষ্য রাখবে।
পেসার টাসকিন আহমেদ তার শুভেচ্ছা সংক্ষিপ্ত ও উজ্জীবিত রাখেন, নতুন বছরকে ইতিবাচকতা, অনুপ্রেরণা এবং সুখের সঙ্গে শুরু করার আহ্বান জানান। তার বার্তা তরুণ ক্রীড়াবিদদের মধ্যে আশাবাদ জাগিয়ে তুলতে লক্ষ্য রাখে।
ওপেনার তানজিদ তামিম শোকের সময়ে সামাজিক দায়িত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, মানুষ তাজা বাতাসের পেছনে ছুটে যায়, তবু তা দূষিত করে, নিজের স্বাস্থ্যের উদ্বেগে থাকে কিন্তু হাসপাতালের রোগীদের অবহেলা করে, এবং কথা বেশি বলে কাজ কম করে। তার নতুন বছরের প্রার্থনা হল, সবাইকে সত্যিকারের উন্নতি করার সুযোগ দেওয়া হোক।
ফুটবল দলের ক্যাপ্টেন জামাল ভূয়ান ২০২৫ সালের বিদায় জানিয়ে ২০২৬ সালের জন্য দেশের মঙ্গল কামনা করেন। তিনি দেশের সমগ্র জনগণের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে নতুন বছরের সূচনায় ইতিবাচকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
মহিলা ফুটবল দলের ফরোয়ার্ড রিতু পর্ণা চাকমা, যিনি ২০২৫ সালে রোকেয়া পদকসহ দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পেয়েছেন, নতুন বছরের জন্য “ধন্যবাদ ২০২৫! নতুন চ্যালেঞ্জের সঙ্গে বছর শুরু হোক” বলে একটি পোস্ট শেয়ার করেন। তার বার্তা দলীয় ঐতিহাসিক সাফল্যের স্মরণ করিয়ে দেয়, যা গত বছর অর্জিত হয়েছিল।
মহিলা ফুটবল দল গত বছর একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করেছে, যা দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এই সাফল্য দলকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে আত্মবিশ্বাসী করেছে এবং দেশের ক্রীড়া উত্সাহীদের মধ্যে গর্বের সঞ্চার করেছে।
সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা শোকের মাঝেও দায়িত্ববোধ এবং নতুন লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সংকল্প প্রকাশ করেছেন। তারা নতুন বছরের প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেশকে শান্তি, ঐক্য এবং ক্রীড়া সাফল্যের পথে এগিয়ে নিতে চায়।
ক্রিকেটের টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে; দলটি ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও শ্রীলঙ্কার ময়দানে প্রতিদ্বন্দ্বীদের মুখোমুখি হবে। একই সঙ্গে, জাতীয় ফুটবল দলও আসন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে তারা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারফরম্যান্স উন্নত করার লক্ষ্য রাখবে।
ক্রীড়া জগতের এই নতুন বছরের সূচনা শোকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে, দেশীয় জনগণের জন্য আশার বার্তা বহন করে। ক্রীড়াবিদদের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা দেশের সামাজিক ও ক্রীড়া পরিবেশকে সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
শান্তি, ঐক্য এবং সাফল্যের প্রত্যাশা নিয়ে বাংলাদেশি ক্রীড়াবিদরা ২০২৬ সালের প্রথম দিন থেকেই নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাদের এই ইতিবাচক মনোভাব এবং প্রস্তুতি দেশের ক্রীড়া উত্সাহীদের মধ্যে নতুন উদ্যমের সঞ্চার করবে।



