শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় ৪৫ বছর বয়সী গ্রাম্য চিকিৎসক খোকন চন্দ্রের ওপর রাত্রিকালীন আক্রমণ ঘটে। অপরাধীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে, নগদ টাকা ও মোবাইল চুরি করে এবং পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করে। ঘটনাটি ডামুড্যা থানার ওসিরা রবিউল হকের জানামতে বুধবার রাত প্রায় নয়টায় ঘটেছে।
খোকন চন্দ্র গ্রাম্য চিকিৎসক ও ওষুধ বিক্রেতা হিসেবে কাজ করতেন এবং তিলই গ্রাম, কনেশ্বর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি পরেশ চন্দ্রের পুত্র এবং স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যের সেবা প্রদান করতেন।
আক্রমণটি কনেশ্বর ইউনিয়নের কেউরভাঙ্গা এলাকায় তার বাড়ি ফেরার পথে ঘটেছে। অপরাধীরা হঠাৎ তার সামনে উপস্থিত হয়ে পেটের নিচে ছুরিকাঘাত করে, ফলে তার শারীরিক ক্ষতি হয়। ছুরি আঘাতের পর তারা তার সঙ্গে থাকা নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
অপরাধীরা তৎক্ষণাৎ পেট্রল ঢেলে তার দেহে আগুন জ্বালায়। খোকন চন্দ্র দ্রুত পানির কাছে ঝাঁপিয়ে আত্মরক্ষা করেন এবং অগ্নি নিভে যাওয়ার পর স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তার আঘাতের তীব্রতা মূল্যায়ন করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেফারেল দেন। রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস স্থিতিশীল থাকলেও অগ্নিকাণ্ডের ফলে ত্বকে গভীর দাগ ও পোড়া দেখা যায়।
ডামুড্যা থানার ওসি রবিউল হক ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অপরাধীরা খোকনের তলপেটে ছুরিকাঘাত করে এবং তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল চুরি করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালানোর পর খোকন পানিতে ঝাঁপিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন।
পুলিশের মতে, ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও সিআরটি রেকর্ডের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। বর্তমানে অপরাধীদের সনাক্তকরণ ও গ্রেপ্তারী কার্যক্রম চালু রয়েছে। তদন্তে সংশ্লিষ্ট এলাকার নিরাপত্তা ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।
খোকনের স্ত্রী সীমা দাস ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পরিবার ও সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ত্বরিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, ছুরিকাঘাত, চুরি, অগ্নিকাণ্ড এবং প্রাণঘাতী হুমকি সংক্রান্ত ধারাগুলি প্রয়োগ করা হবে। সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য দণ্ডমূলক ব্যবস্থা এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী এলাকায় অতিরিক্ত পেট্রোলিং শুরু করেছে। সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অনুরূপ অপরাধ রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য বিশেষ কর্মসূচি গৃহীত হবে।



