28 C
Dhaka
Friday, May 8, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিভারত- পাকিস্তান উঁচু পর্যায়ের কূটনৈতিক আদানপ্রদান ঢাকায়, খালেদা জিয়ার শোকবইতে স্বাক্ষর

ভারত- পাকিস্তান উঁচু পর্যায়ের কূটনৈতিক আদানপ্রদান ঢাকায়, খালেদা জিয়ার শোকবইতে স্বাক্ষর

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবনে বুধবার, ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানীয় জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক একত্রে উপস্থিত হয়ে শোকবইতে স্বাক্ষর করেন। এই সাক্ষাৎটি খালেদা জিয়া, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের শেষ যাত্রার পর অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উভয় দেশই শোক প্রকাশের পাশাপাশি কূটনৈতিক কুশল বিনিময় করে।

শোকবইতে স্বাক্ষর করার সময়, পাকিস্তানি স্পিকারকে ভারতীয় মন্ত্রী এগিয়ে গিয়ে করমর্দন করেন। হাত মেলানোর পর, জয়শঙ্কর নিজ পরিচয় দিয়ে স্পিকারের কাছে জানিয়ে দেন যে তিনি তাকে আগে থেকে চিনতে পেরেছেন। এই সংক্ষিপ্ত কথোপকথনটি দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন সূচনার ইঙ্গিত দেয়।

শোকবই স্বাক্ষরের পর, জয়শঙ্কর ও সরদার আয়াজ উভয়েই খালেদা জিয়ার পুত্র, তরেক রহমানের সঙ্গে আলাদা আলাদা সময়ে সাক্ষাৎ করেন। তরেক রহমানকে সমবেদনা জানিয়ে দু’জনই পারিবারিক ক্ষতির প্রতি শোক প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ সম্পর্কের আশার কথা বলেন।

পাকিস্তানীয় জাতীয় পরিষদ শোকবইতে স্বাক্ষরের সময় একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানায় যে, শোকবইতে স্বাক্ষর করার সময় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অতিথি। স্পিকার উল্লেখ করেন, জয়শঙ্কর তার দিকে এগিয়ে এসে করমর্দন করার সময় নিজের পরিচয় দেন এবং স্পিকারের সঙ্গে পরিচিতি প্রকাশ করেন।

বক্তব্যের পরে, সরদার আয়াজ টুইটারে ঘটনাটির ছবি ও সংক্ষিপ্ত বিবরণ পোস্ট করেন, যেখানে তিনি ভারতীয় মন্ত্রীর সঙ্গে হাত মেলানো দৃশ্য দেখিয়েছেন। টুইটটি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং দু’দেশের কূটনৈতিক সংলাপের নতুন দিক হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়।

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরও এই সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময়ের তথ্য প্রকাশ করে। দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শোকবই স্বাক্ষরের সময় উভয় মন্ত্রীই পারস্পরিক সম্মান ও সমবেদনা প্রকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

পাকিস্তানীয় পরিষদ একই সময়ে একটি অতিরিক্ত বিবৃতি জারি করে, যেখানে বলা হয়েছে যে, পাকিস্তান অব্যাহতভাবে সংলাপ, সংযম এবং সহযোগিতামূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে অতর্কিত আগ্রাসন ও উত্তেজনা প্রতিরোধের আহ্বান জানাচ্ছে। এছাড়া, শান্তি আলোচনা এবং পেহেলগামের ঘটনার যৌথ তদন্তের প্রস্তাবও উল্লেখ করা হয়েছে।

এই সাক্ষাৎটি ২০২৫ সালের মে মাসে দু’দেশের মধ্যে সংঘটিত সামরিক সংঘাতের পর প্রথম উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক মিথষ্ক্রিয়া হিসেবে চিহ্নিত। যুদ্ধের পর থেকে দু’দেশের সরকারী শীর্ষ পর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগ সীমিত ছিল, তাই এই সাক্ষাৎকে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চিরবৈরী দু’দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এমন সরাসরি মিথষ্ক্রিয়া সাম্প্রতিক সময়ে বিরল। বিশেষ করে, দু’দেশের পারস্পরিক শত্রুতার পরিপ্রেক্ষিতে এই ধরনের সাক্ষাৎ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে স্বীকৃত।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, এই কূটনৈতিক আদানপ্রদান ভবিষ্যতে দু’দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে পারে। শোকবই স্বাক্ষরের মাধ্যমে উভয় পক্ষই পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে, সংলাপের মাধ্যমে বিরোধের সমাধান খোঁজার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তবে, বাস্তবিকভাবে কী ধাপ নেওয়া হবে, তা পরবর্তী কূটনৈতিক মিটিং ও আলোচনার ওপর নির্ভর করবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments