একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাসের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে: ওরেগনের উপকূলের প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত অ্যাক্সিয়াল সমুদ্রগর্ভ আগ্নেয়গিরি ২০২৫ সালে অগ্নি বিস্ফোরণ ঘটায়নি। তবে গবেষকরা এখন ২০২৬ সালের মধ্যে আবারো বিস্ফোরণের সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন।
অ্যাক্সিয়াল সীমান্ট, উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত একটি পানির নিচের পাহাড়, গত বছর বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট পূর্বাভাস পেয়েছিল। তারা বলেছিল, ২০২৫ সালের শেষের আগে গিরিটি অগ্নি ছুঁড়বে। তবে বছরের শেষ পর্যন্ত কোনো অগ্নি লক্ষণ দেখা যায়নি, ফলে সেই পূর্বাভাসটি বাস্তবায়িত হয়নি।
এই অপ্রত্যাশিত ফলাফলকে বিশ্লেষণ করতে, ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির হ্যাটফিল্ড মেরিন সায়েন্স সেন্টারের ভূ-ভৌতবিদ উইলিয়াম চ্যাডউইক এবং তার দল পুনরায় ডেটা পর্যালোচনা করেছেন। তিনি ডিসেম্বর ১৬ তারিখে আমেরিকান জিওফিজিক্যাল ইউনিয়নের বার্ষিক সম্মেলনে নতুন বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। এতে তিনি পূর্বের পূর্বাভাসের সম্ভাব্য ত্রুটি ও ভবিষ্যৎ গবেষণার দিকনির্দেশনা তুলে ধরেছেন।
চ্যাডউইক উল্লেখ করেন, দীর্ঘমেয়াদী আগ্নেয়গিরি পূর্বাভাস এখনও বিজ্ঞানীর জন্য চ্যালেঞ্জিং কাজ। “এই গবেষণাটি দীর্ঘমেয়াদী অগ্নি পূর্বাভাসের সীমা পরীক্ষা করার একটি পরীক্ষা,” তিনি বলেন। তিনি যোগ করেন, পূর্বের অনুমানটি গিরির নিচে মাগমার গতি দ্বারা সৃষ্ট সমুদ্রতল বিস্তার ও সংকোচনের পুনরাবৃত্ত প্যাটার্নের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছিল। একই প্যাটার্ন ২০১৫ সালে দেখা গিয়েছিল, এবং সেই সময়ে গিরি সত্যিই অগ্নি ছুঁড়ে ফেলেছিল।
২০১৫ সালের সফল পূর্বাভাসের পর, গবেষক দল একই ডেটা প্যাটার্নকে ২০২৫ সালের পূর্বাভাসের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছিল। তবে ২০২৫ সালে অগ্নি না ঘটার কারণ এখনও সম্পূর্ণভাবে বোঝা যায়নি। চ্যাডউইক এবং তার সহকর্মীরা নতুন বিশ্লেষণে দেখেছেন যে, সমুদ্রতল বিস্তার ও সংকোচনের তীব্রতা ও সময়সীমা পূর্বের তুলনায় কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে, যা পূর্বাভাসকে অপ্রতুল করে তুলতে পারে।
নতুন গবেষণায় সিসমিক (কম্পন) এবং সমুদ্রতল ইনফ্লেশন (বিস্তারণ) ডেটার সমন্বয় করে সম্ভাব্য অগ্নি সময়সীমা নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়েছে। এই পদ্ধতি অনুযায়ী, গিরি সম্ভবত ২০২৬ সালের মধ্যে অগ্নি ছুঁড়ে ফেলতে পারে। তবে নির্দিষ্ট মাস বা তারিখের পূর্বাভাস এখনও বিজ্ঞানীর কাছে কঠিন।
অ্যাক্সিয়াল সীমান্টের বৈশিষ্ট্য হল, এটি নিয়মিতভাবে অগ্নি বিস্ফোরণ ঘটায়, যা সমুদ্রের তলদেশে নতুন ভূতাত্ত্বিক গঠন তৈরি করে। এই নিয়মিত কার্যকলাপ গবেষকদের জন্য একটি প্রাকৃতিক ল্যাবরেটরি হিসেবে কাজ করে, যেখানে তারা মাগমার গতি, সমুদ্রতল পরিবর্তন এবং সিসমিক কার্যকলাপের সম্পর্ক গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।
বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের মতে, দীর্ঘমেয়াদী আগ্নেয়গিরি পূর্বাভাসের জন্য এখনও নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি গড়ে তোলা বাকি। বর্তমান গবেষণায় ডেটার সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ, মডেলিং এবং অতীতের উদাহরণগুলোর তুলনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চ্যাডউইক উল্লেখ করেন, “অভিজ্ঞতা থেকে শিখে আমরা কী সম্ভব এবং কী অসম্ভব তা বুঝতে পারি,” এবং এই শিক্ষাকে ভবিষ্যৎ পূর্বাভাসে প্রয়োগ করা হবে।
অ্যাক্সিয়াল গিরির অগ্নি না ঘটলেও, বিজ্ঞানীরা সতর্কতা বজায় রাখছেন। সমুদ্রের নিচের গিরিগুলোর অগ্নি বিস্ফোরণ সরাসরি মানব সমাজকে প্রভাবিত না করলেও, সমুদ্রের তাপমাত্রা, জলের গুণগত মান এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই গবেষকরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং নতুন ডেটা সংগ্রহের মাধ্যমে পূর্বাভাসের নির্ভুলতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।
পাঠকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল, বর্তমান পর্যন্ত কোনো জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়নি এবং সমুদ্রগর্ভ গিরির অগ্নি বিস্ফোরণ সরাসরি কোনো মানব বসতিতে হুমকি সৃষ্টি করে না। তবে বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকায়, ভবিষ্যতে কোনো অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন হলে তা দ্রুত জানানো হবে।
অ্যাক্সিয়াল সীমান্টের ভবিষ্যৎ অগ্নি সম্ভাবনা সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আপডেট অনুসরণ করা উচিৎ। আপনার মতামত বা প্রশ্ন থাকলে, বিজ্ঞান সংক্রান্ত আলোচনায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়াতে পারেন।



