শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড ২ ফেব্রুয়ারি, সোমবার, ২০২৬ টি২০ বিশ্বকাপের জন্য ১৫ জনের দল ঘোষণায় নতুন মুখ যুক্ত করেছে। ২৭ বছর বয়সী কামিন্দু মেন্ডিসকে নির্বাচিত করা হয়েছে, আর পূর্বে ইংল্যান্ড সিরিজের স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও তিনি দ্রুতই ফিরে এসেছেন।
কামিন্দু মেন্ডিসের অন্তর্ভুক্তি ধনঞ্জয় দে সিলভার বাদ দেওয়ার ফলে ঘটেছে। দে সিলভা, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে দলের মূল খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিলেন, এইবারের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নাম পাননি। একই সঙ্গে দ্রুতগতি পারদর্শী প্রমোদ মধুশনকেও স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
দাসুন শানাকা নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কা দলের বাকি অংশটি ইংল্যান্ড সিরিজের জন্য গৃহীত স্কোয়াডের সঙ্গে বেশ সমান। মূল পার্থক্যগুলো হল মেন্ডিসের যোগ এবং দে সিলভা ও মধুশনের বাদ। ফলে দলটি অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ও নতুন শক্তির সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে।
কামিন্দু মেন্ডিসের ফিরে আসা শ্রীলঙ্কার টি২০ পরিকল্পনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি অলরাউন্ডার হিসেবে পরিচিত, যার ব্যাটিং ও বোলিং উভয় দিকেই অবদান রাখার ক্ষমতা রয়েছে। যদিও তিনি সাম্প্রতিক ইংল্যান্ড সিরিজে স্কোয়াডে না থাকলেও, তার অভিজ্ঞতা ও বহুমুখিতা দলকে নতুন গতিশক্তি প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ধনঞ্জয় দে সিলভা, যিনি মাঝারি অর্ডার ব্যাটসম্যান এবং কখনও কখনও স্পিনার হিসেবে খেলা করেন, এইবারের নির্বাচনে অন্তর্ভুক্ত হননি। তার বাদ দেওয়া দলের কৌশলগত সমন্বয় ও ব্যাটিং শৃঙ্খলায় পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
প্রমোদ মধুশন, যিনি দ্রুত গতি দিয়ে সিক্সার মারতে পারদর্শী, তাও স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন। তার অনুপস্থিতি স্পিনারদের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়াবে এবং দলের গতি পরিবর্তনের বিকল্প হিসেবে অন্যান্য বোলারদের ব্যবহার বাড়াবে।
শ্রীলঙ্কা দলের ক্যাপ্টেন দাসুন শানাকা এই পরিবর্তনগুলোকে দলের সামগ্রিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছিলেন, নতুন খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি এবং কিছু অভিজ্ঞের বাদ দেওয়া দলকে আরও গতিশীল ও অভিযোজ্য করে তুলবে।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে শ্রীলঙ্কা ইতিমধ্যে কয়েকটি প্রশিক্ষণ শিবির এবং অভ্যন্তরীণ ম্যাচের মাধ্যমে দলকে গঠন করছে। নতুন স্কোয়াডের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতি নিতে এই ধাপগুলো গুরুত্বপূর্ণ।
কামিন্দু মেন্ডিসের অন্তর্ভুক্তি দলের ব্যাটিং গভীরতা বাড়াবে, বিশেষত শেষ ওভারগুলিতে দ্রুত রান সংগ্রহে তার ক্ষমতা কাজে লাগবে। তার বোলিং দক্ষতা, যদিও সীমিত, তবে স্পিনারদের সঙ্গে সমন্বয় করে অতিরিক্ত বিকল্প প্রদান করবে।
দলটির বাকি সদস্যরা, যার মধ্যে শানাকা, কুমার সিংহ, এবং অন্যান্য অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা অন্তর্ভুক্ত, পূর্বের সিরিজে অর্জিত অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে নতুন স্কোয়াডের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াবে। এই সমন্বয় শ্রীলঙ্কাকে টি২০ বিশ্বকাপের কঠিন প্রতিযোগিতায় সফল হতে সহায়তা করবে।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের ঘোষণার পর, ভক্ত ও বিশ্লেষকরা নতুন স্কোয়াডের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। মেন্ডিসের ফিরে আসা এবং দে সিলভা ও মধুশনের বাদ দেওয়া নিয়ে বিভিন্ন মতামত প্রকাশিত হয়েছে, তবে সকলেই একমত যে দলটি এখন নতুন চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত।
বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী শ্রীলঙ্কা প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষের সঙ্গে মুখোমুখি হবে, এবং নতুন স্কোয়াডের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে দলটি টুর্নামেন্টে কতদূর যেতে পারবে। এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলটি প্রস্তুতি, কৌশল এবং মানসিক দৃঢ়তা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবে।



