বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর থাকুরগাঁও-১ নির্বাচনী সমাবেশে সোমবার বিকালে এক স্পষ্ট বক্তব্য দেন। তিনি জামায়াত-এ-ইসলামি দলকে স্বাধীনতার বিরোধী হিসেবে উল্লেখ করে, তাদেরকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রাখার পক্ষে না বলছেন। এই মন্তব্য আখানগর ইউনিয়নের নির্বাচনী গণসংযোগের সময় প্রকাশিত হয়।
মির্জা ফখরুল নিজেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, “আমি মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধকালে জামায়াত-এ-ইসলামি স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, তাই তাদেরকে রাষ্ট্রের দায়িত্বে রাখা যায় না।” তিনি এই কথা পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়করা দেশের শাসনে অংশ নিতে পারে না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আজকের সময়ে জামায়াত-এ-ইসলামি অনেক কথা বলছে, কিন্তু তাদের ঐতিহাসিক অবস্থান পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।” মির্জা ফখরুলের মতে, দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এমন দলকে শাসনে আনা উচিত নয়।
হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে মির্জা ফখরুলের মন্তব্য বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তিনি বলেন, “আমার হিন্দু ভাইবোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। এই রাষ্ট্র তাদের নির্বাচন সংক্রান্ত সব ধরনের সুরক্ষা দেবে।” তিনি গ্যারান্টি দেন যে হিন্দুদের কোনো ধরণের হুমকি বা আক্রমণ হবে না।
মির্জা ফখরুল আলমগীর হিন্দু সম্প্রদায়কে আশ্বাস দেন, “আমি আপনাদের বলছি, আপনারা গায়ে কোনো ফুলের টোকা না পেয়ে নিরাপদে ভোট দিতে পারবেন, ইনশাআল্লাহ।” তিনি এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে হিন্দু ভোটারদের সমর্থন জোরদার করেন।
গত ১৫ বছর ধরে সরকারী নির্বাচনের অভাব নিয়ে তিনি সমালোচনা করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, “গত ১৫ বছর আমরা নির্বাচন করতে পারিনি, তাই আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে ১২ তারিখের ভোট নিশ্চিত করেছি।” তিনি উল্লেখ করেন, এই ভোটে কোনো জবরদস্তি হবে না এবং সবাই স্বেচ্ছায় ভোট দিতে পারবে।
বৈধ ভোটদান নিশ্চিত করতে তিনি রাষ্ট্রের সব শক্তির সমর্থন দাবি করেন। মির্জা ফখরুলের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং জনগণ দুজনই ভোটের নিরাপত্তা রক্ষায় অংশ নেবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ভোটের সময় কোনো জবরদস্তি হবে না, সবাই স্বাধীনভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে।”
মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে তিনি থাকুরগাঁও জেলার উন্নয়ন পরিকল্পনাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “থাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং হিন্দু-মুসলমান ভাইবোনদের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে একজোট হয়ে ভোট দিতে হবে।” তিনি বিএনপিকে কাজের সুযোগ দিতে ভোটারদের আহ্বান জানান।
এই সমাবেশে থাকুরগাঁও জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নের বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মির্জা ফখরুলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তারা সকলেই একমত যে জামায়াত-এ-ইসলামি দলকে শাসনে আনা উচিত নয়।
মির্জা ফখরুলের মন্তব্যের পেছনে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়কদের স্বীকৃতি ও তাদের নৈতিক দায়িত্বের কথা তুলে ধরছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যারা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বিরোধিতা করেছে, তাদেরকে রাষ্ট্রের দায়িত্বে রাখা যায় না।”
বিএনপি মহাসচিবের এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ সমর্থন দাবি করেন।
মির্জা ফখরুলের এই মন্তব্যের ফলে জামায়াত-এ-ইসলামি দলের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্লেষণ বাড়বে। তিনি ভোটারদের একতাবদ্ধ করে, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
অবশেষে, মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, স্বাধীনতার ইতিহাসকে সম্মান করে, হিন্দু-মুসলমান সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, এবং স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা হবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি বিএনপিকে ভোটারদের সমর্থন পেতে দৃঢ় আহ্বান জানান।



