বাংলাদেশ ব্যাংক আগামীকাল থেকে টাকার ১০ নোটের নতুন সংস্করণ বাজারে প্রবেশ করাবে। নতুন নোটটি মোটিফ পরিবর্তনের অংশ হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে, যা দেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্যকে তুলে ধরবে। প্রকাশের প্রধান লক্ষ্য হল নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য উন্নত করা এবং নগদ লেনদেনের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা।
প্রারম্ভিক বিতরণ মোটিভহিল শাখা থেকে শুরু হবে, এরপর দেশের অন্যান্য শাখা ও নগদ কেন্দ্রগুলোতে ধীরে ধীরে পৌঁছাবে। এই ধাপভিত্তিক রোল‑আউট পদ্ধতি নগদ সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
নতুন নোটের সামনের বাম পাশে ঢাকা শহরের বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদ চিত্রিত হবে, আর কেন্দ্রে জলকুমারী (পানির লিলি) ফুলের পটভূমি থাকবে। এই ডিজাইনটি দেশের ধর্মীয় ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের সমন্বয়কে প্রতিফলিত করে।
পেছনের দিকে ২০২৪ সালের গ্রাফিতি শিল্পের একটি কাজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আধুনিক শিল্পের ছোঁয়া যোগ করবে। এই চিত্রটি নোটের ভিজ্যুয়াল সুরক্ষা বাড়াতে সহায়তা করবে।
বর্তমানে প্রচলিত টাকার ১০ কাগজের নোটগুলো নতুন নোটের সঙ্গে সমসাময়িক বৈধ মুদ্রা হিসেবে থাকবে, ফলে কোনো লেনদেনে বিভ্রান্তি হবে না। পুরনো নোটগুলো ধীরে ধীরে অবসর নেওয়া হবে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে অবৈধ হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক সংগ্রাহকদের জন্য অ-প্রতিবর্তনীয় নমুনা নোটও মুদ্রণ করেছে, যা মিরপুরের মুদ্রা জাদুঘরে নির্দিষ্ট মূল্যে বিক্রি হবে। এই নমুনা নোটগুলো বিশেষভাবে ডিজাইনারের স্বাক্ষর ও সিরিয়াল নম্বরসহ থাকবে, যা সংগ্রহমূল্য বাড়াবে।
নতুন সিরিজের নাম “বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য” এবং এতে টাকার ১,০০০, ৫০০, ২০০, ১০০, ৫০, ২০, ১০, ৫, ২ নোটের সব মান অন্তর্ভুক্ত। প্রতিটি মানের নোটে দেশের ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন চিত্রিত হবে।
এর মধ্যে টাকার ১,০০০, ৫০০, ১০০, ৫০ এবং ২০ নোট ইতিমধ্যে বাজারে প্রবেশ করেছে, ফলে নগদ প্রবাহে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। নতুন নোটের ধারাবাহিক রোল‑আউটের ফলে বাকি মানগুলোরও শীঘ্রই প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্যবসা ক্ষেত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন নোটের প্রবর্তন নগদ লেনদেনের নিরাপত্তা বাড়াবে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নগদ পরিচালনা সহজ করবে। এটিএম ও ক্যাশ রেজিস্টার আপডেটের প্রয়োজনীয়তা সাময়িকভাবে বাড়বে, তবে দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রা হ্যান্ডলিংয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।
সংগ্রাহক বাজারে অ-প্রতিবর্তনীয় নমুনা নোটের চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা মুদ্রা জাদুঘরের আয় বৃদ্ধি করবে। একই সঙ্গে নতুন নোটের প্রচলন মুদ্রা সাপ্লাই চেইনের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে, মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রা ঘূর্ণায়নের ঝুঁকি কমাবে।
ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ব্যাংক এই সিরিজের সব মানের নোট সম্পূর্ণভাবে রোল‑আউট করলে নগদ ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য অর্জন করা সম্ভব হবে। বর্তমান রোল‑আউটের সাফল্য পরবর্তী নোটের ডিজাইন ও উৎপাদনে নির্দেশক হবে।



