বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী সোমবার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানান যে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলা, দশমিনা উপজেলা এবং গলাচিপা পৌরসভার জন্য নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিগুলোকে পার্টির তলদেশে সংগঠনের শক্তি বাড়াতে এবং আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে লক্ষ্য করে গঠন করা হয়েছে।
গলাচিপা উপজেলার জন্য ২১ সদস্যবিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির প্রধান হিসেবে গলাম মোস্তফা নির্বাচিত হয়েছেন, আর আলতাফ হোসেনকে সদস্য সচিব নিযুক্ত করা হয়েছে। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কদের দায়িত্বে রয়েছেন সোহরাব মিয়া, জাহাঙ্গীর হোসেন, শহীদুল ইসলাম তালুকদার, আব্দুস সোবাহান, মো. নেছার রাড়ি, সোনিয়া আফরোজ, রেনু আক্তার, আলী আহমেদ আকন, ফোরকান খান, মকবুল খান, আশরাফ উজ্জামান। এছাড়া আনোয়ারা শাহজাহান, শাহ মেহেদী ফাহাদ (গোলাপ), চাঁন মিয়া মুসল্লি, হুমায়ন কবির (৯ নং ওয়ার্ড, পৌরসভা), আবুল কালাম আজাদ (কলাগাছিয়া), একলাস মাতবর (বকুল বাড়িয়া), মাসুম প্যাদা এবং মামুন (গজালিয়া) সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত।
দশমিনা উপজেলার জন্য ১৬ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে সিদ্দিক আহম্মেদ মোল্লা নির্বাচিত হন, আর শাহ আলম শানুকে সদস্য সচিব নিযুক্ত করা হয়েছে। যুগ্ম আহ্বায়কদের দায়িত্বে আছেন মো. ইসমাইল মেলকার, আব্দুল হাই (পঞ্চায়েত), মো. আমিন হাওলাদার, মো. বাচ্চু সিকদার, ডা. গলাম মোস্তফা, মমিন তালুকদার, মাহাবুর রহমান, মো. জালাল মেলকার, শহীদুল আলম বয়াতি, মজিবুর রহমান, খাইরুল ইসলাম খান, নাসির উদ্দিন বাবুল। পাশাপাশি রাশাদ আকন ও শাহিন মেম্বারকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গলাচিপা পৌরসভার জন্য দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি আংশিক আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। রফিকুল ইসলাম খানকে আহ্বায়ক এবং সাহেব আলী মাতাব্বরকে সদস্য সচিব হিসেবে নির্ধারিত করা হয়েছে। এই কমিটি পার্টির নগর স্তরে কার্যক্রম সমন্বয় এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখবে।
প্রতিটি কমিটি পার্টির অভ্যন্তরীণ নীতি অনুযায়ী গঠন করা হয়েছে এবং গলাচিপা ও দশমিনা অঞ্চলের রাজনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করবে। কমিটির সদস্যরা স্থানীয় স্তরে পার্টির নীতি প্রচার, সমাবেশ আয়োজন এবং ভোটার সংযোগ স্থাপনে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
অবস্থানীয় বিরোধী দল, আওয়ামী লীগ, গলাচিপা ও দশমিনার রাজনৈতিক পরিবেশে এই পদক্ষেপকে পার্টির পুনরুজ্জীবনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, এই ধরনের সংগঠন পার্টির ভিত্তি শক্তিশালী করতে পারে, তবে একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা তীব্র করবে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে, গলাচিপা ও দশমিনার নতুন আহ্বায়ক কমিটি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রভাব বাড়াতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে সমুদ্রতটের এই দুই এলাকায় পার্টির ঐতিহাসিক সমর্থন ভিত্তি রয়েছে, যা পুনরায় সক্রিয় করা হলে ভোটার ঘাঁটি গড়ে তোলার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।
কমিটির সদস্যরা আগামী সপ্তাহে প্রথম সমন্বয় সভা করার পরিকল্পনা করেছে। এই সভায় পার্টির জেলা স্তরের নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয়, কার্যকরী পরিকল্পনা এবং নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া, স্থানীয় সমস্যার সমাধান এবং জনসাধারণের সঙ্গে সংলাপের জন্য নিয়মিত সভা চালু করার কথাও বলা হয়েছে।
গলাচিপা ও দশমিনা অঞ্চলে নতুন আহ্বায়ক কমিটির গঠন পার্টির তলদেশে সংগঠনকে পুনর্গঠন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিএনপি স্থানীয় স্তরে তার উপস্থিতি পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে এবং আসন্ন নির্বাচনী চক্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রস্তুতি নিতে চায়।



