31 C
Dhaka
Saturday, May 9, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমব হিংসা নিয়ন্ত্রণ না হলে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে প্রভাব পড়তে পারে, টিআইবি...

মব হিংসা নিয়ন্ত্রণ না হলে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে প্রভাব পড়তে পারে, টিআইবি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর সতর্ক

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ইফতেখারুজ্জামান আজ ধানমন্ডি শাখার অফিসে উপস্থাপিত গবেষণা পত্রের পর প্রশ্নোত্তর সেশনে জানিয়েছেন, মব হিংসা নিয়ন্ত্রণ না হলে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ঝুঁকি শুধুমাত্র নির্বাচনের দিন নয়, তার পরের কয়েক দিনেও অব্যাহত থাকতে পারে।

প্রস্তাবিত গবেষণা পত্রের শিরোনাম “ন্যায়, রাষ্ট্র সংস্কার ও অটোরিটেরিয়ানিজমের পতনের পর নির্বাচন: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা”। পত্রটি টিআইবি অফিসে বিকেলবেলায় উপস্থাপিত হয় এবং তার পরের সেশনে ডিরেক্টর ইফতেখারুজ্জামান বিশদভাবে বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন।

ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, মব হিংসার উত্স মূলত সরকারের অভ্যন্তর থেকে উদ্ভূত হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের প্রশাসনিক কেন্দ্র, বাংলাদেশ সেক্রেটারেট, প্রথমে মবের সমাবেশের স্থান হিসেবে কাজ করেছে। এই প্রক্রিয়ায় গঠিত গোষ্ঠীগুলি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শক্তি অর্জন করে, যা সরকারী নৈতিক কর্তৃত্বকে দুর্বল করেছে।

মব গোষ্ঠীর এই উত্থান সরকারী নৈতিকতা ও জনসাধারণের আস্থা ক্ষয় করে, ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। ইফতেখারুজ্জামান জোর দিয়ে বলেন, মবের ক্ষমতায় আসা সরকারকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যাতে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করা না যায়।

ডিরেক্টর আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের দিন কোনো প্রাণহানি বা হিংসা না ঘটুক, তবে তিনি এই প্রত্যাশা নিশ্চিত করতে পারছেন না। তিনি বলেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি মূল্যায়নে সর্বোচ্চ সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, বর্তমান ঝুঁকি মূল্যায়ন অনুসারে, মব হিংসা ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে না; তা নির্বাচনের পরের দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকতে পারে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানান, যাতে অপ্রত্যাশিত ঘটনার মোকাবেলা করা যায়।

বাংলাদেশ সরকার এই ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সক্ষমতা রাখে, ডিরেক্টর উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সরকারী সংস্থাগুলোর কাছে যথাযথ কর্তৃত্ব, জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা হিংসা রোধে ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে অতীতের নির্বাচনী ইতিহাসের আলোকে ইফতেখারুজ্জামান উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে নির্বাচন সাধারণত হিংসা মুক্ত নয়; যদিও কিছু সময়ে তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে, তবে তা ব্যতিক্রম হিসেবে বিবেচিত হয়।

ডিরেক্টর জোর দিয়ে বলেন, পূর্বের নির্বাচন থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা বর্তমান প্রক্রিয়ায় প্রয়োগ করা উচিত, যাতে হিংসা কমিয়ে আনা যায়। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে শিখে সঠিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গঠন করা জরুরি।

শেষে, ইফতেখারুজ্জামান টিআইবি-কে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় নীতি সুপারিশ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, যাতে নির্বাচনের সময় মব হিংসা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়। তিনি আশা করেন, সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে, তবে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা অপরিহার্য।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments