কক্সবাজারের বাহারছড়া গোল চত্বরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে ২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত-এ-ইসলামি আমির শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লাল কার্ড দেখানোর সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করে, ১২ ফেব্রুয়ারি নাগাদ দেশের মানুষকে এই প্রতীকী পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।
শফিকুর রহমানের মতে, ২০১৮ বা ২০২৪ সালের নির্বাচন নয়, বরং এই নির্বাচনই ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করার, জুলাই ১৯৭১ের যোদ্ধাদের প্রত্যাশা পূরণ করার এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মূল মঞ্চ হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে দেশের সব প্রান্তে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং জুলাই হত্যার বিচারের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে।
আহ্বানটি তিনি “লাল কার্ড” শব্দে প্রকাশ করেন, যা তিনি পচা ঘুণে ধরা রাজনীতির অবসান এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেন। শফিকুর রহমানের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি নাগাদ জনগণ এই লাল কার্ড দেখাবে এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
জনসভার সময় তিনি নারীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ প্রতিশ্রুতি দেন। সরকার গঠনের সুযোগ পেলে নারীদের মাস্টার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হবে, তিনি জানান। এছাড়া, তিনি নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলায় গোপনে তার পেছনে চাপা পড়ার কথা উল্লেখ করে, ক্ষমতায় এলে নারীদের মর্যাদা রক্ষার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।
শফিকুর রহমানের ভাষণে অতিরিক্তভাবে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী রাজনীতির ধারাবাহিকতা ভাঙা এবং ন্যায়বিচারকে মূল লক্ষ্য করা হবে। তিনি বলেন, “ইনসাফের মাধ্যমে ন্যায় প্রতিষ্ঠাই হবে আমাদের মূল কাজ” এবং “সবকিছু ক্ষমা করা হলেও জুলাই হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে”।
এই জনসভায় জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম সঞ্চালনা করেন এবং জেলা সভাপতি ও অধ্যক্ষ নূর আহমদ আনোয়ারী সভাপতিত্ব করেন। উভয়েই শফিকুর রহমানের বক্তব্যকে সমর্থন করে, নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকরা সাধারণত নির্বাচনের সময়ে প্রতিশ্রুতিগুলোকে বাস্তবায়নের সক্ষমতা ও রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। এই মুহূর্তে জামায়াত-এ-ইসলামি নেতাদের এই ঘোষণার প্রতি বিরোধী দলগুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়নি।
শফিকুর রহমানের ভাষণ থেকে স্পষ্ট যে, জামায়াত-এ-ইসলামি ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ফ্যাসিবাদী প্রবণতা নির্মূল, নারী শিক্ষার উন্নতি এবং জুলাই ১৯৭১ের হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে। তিনি উল্লেখ করেন, “ইনশাআল্লাহ ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষ লাল কার্ড দেখাবে” এবং “আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশবাসী নতুন একটি বাংলাদেশ পাবে”।
এই ঘোষণার পরবর্তী ধাপ হিসেবে জামায়াত-এ-ইসলামি দল তার নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাবে এবং ১১ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে ক্ষমতা অর্জনের জন্য কৌশল নির্ধারণ করবে। নির্বাচনের ফলাফল কীভাবে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে প্রভাবিত করবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।
সারসংক্ষেপে, শফিকুর রহমানের বক্তব্য কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত জনসভায় ফ্যাসিবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে লাল কার্ডের আহ্বান, নারী শিক্ষার জন্য বিনামূল্যে মাস্টার্সের প্রতিশ্রুতি এবং জুলাই হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিজ্ঞা নিয়ে গঠিত। এই ঘোষণার প্রভাব এবং নির্বাচনের ফলাফল দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



